নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় শহীদ স্মৃতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান চয়নের স্ত্রী হুমায়া আক্তার রিয়ার বিরুদ্ধে লাঞ্চিত ও প্রাণনাশের হুমকী প্রদানের অভিযোগ এনে থানায় সাধারন ডায়েরী করেছেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শীলা রাণী দাস। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ডোমার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন।
শিলা রাণী দাসের দায়ের করা থানায় জিডির সূত্রমতে, বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান চয়নের স্ত্রী হুমায়রা আক্তার রিয়া অর্তকিতভাবে তাঁকে আক্রমন করে শারীরিক ও সামাজিক ভাবে লাঞ্চিত এবং বিভিন্ন হুমকী প্রদান করেন। এসময় বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান চয়ন উপস্থিত ছিলেন সেখানে। সভাপতি সে সময়ে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয় ওই জিডিতে।
ওই শিক্ষিকার অভিযোগ অস্বীকার করে সভাপতির স্ত্রী হুমায়রা আক্তার রিয়া বলেন,‘ওই মেয়ের সাথে আমার স্বামীর অবৈধ দৈহিক সর্ম্পক রয়েছে। ওই মেয়ের কারণে চার বছর ধরে আমার সংসারে অশান্তি বিরাজ করছে। ঘটনার দিন বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে তাদের দু’জনের আপত্তিকর অবস্থা দেখে ফেলায় আমার স্বামী আমাকে ধরে রাখে এবং ওই মেয়ে আমাকে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করে। এরপর বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আমাকে আটক করে রাখে। লোকমুখে খবর পেয়ে আমার স্বজনরা এসে আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামূল হক চৌধুরী বলেন, ‘চার মাস আগে প্রাক-প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিলা রাণী দাস বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ওই শিক্ষিকার সাথে সভাপতি আসাদুজ্জামান চয়নের পূর্ব সখ্যতা এবং সেটিকে কেন্দ্র করে পরিবারে অশান্তির কথা আমি শুনেছি। সভাপতি প্রতিনিয়ত স্কুলে আসেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার সময় সভাপতি এসে শিলা রাণী দাসের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এসময় সভাপতির স্ত্রী হুমায়রা আক্তার রিয়া উপস্থিত হয়ে তাঁর স্বামীসহ শিলা রাণী দাসকে লাঞ্চিত করেন। তাদের চিৎকারে এলাকার মানুষ এগিয়ে এসে তাদেরকেসহ অন্যান্য শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশের সহযোগীতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আসে।’
সভাপতি এবং শিলা রাণী দাসের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জনরোষের হাত থকে তাদেরকে উদ্ধারে ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক এনামুল হক চৌধুরী থানায় একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন সে সময়ে। ওই চিঠির ব্যাপারে শুক্রবার দুপুরে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘সে সময়ে চাপের মুখে সেটি আমাকে লিখতে হয়েছে।’ এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সভা ডেকে পরবর্তী করণীয়ের সিদ্ধান্ত নিবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এলাকার একাধিক অভিভাবক জানায়, বৃহস্পতিবার ওই ঘটনায় শতশত মানুষ ঘেরাও করে রাখে বিদ্যালয়টি। তাদের অভিযোগ সভাপতি, তাঁর স্ত্রী এবং ওই শিক্ষিকার এমন দ্বন্দে বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। উপজেলার মডেল ওই বিদ্যালয়টির মান টিকিয়ে রাখতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন তাঁরা।
বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান চয়ন অভিযোগ অস্বীকার করে এব্যাপরে বলেন, ‘রাজনীতিতে আমি পৌর জাতীয় পাটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। পরবর্তী পৌর নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী আমি। স্কুলের সভাপতি হিসেবে কতিপয় শিক্ষকের অনিয়ম দূর্নীতির প্রতিবাদ করায় আমাকে রাজনৈতক ভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে ভুল বুঝিয়ে কিছু ব্যক্তি আমার স্ত্রীকে দিয়ে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে।’ থানায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডির ব্যাপারে তিনি বলেন,‘কেউ অন্যায় করলে তার শাস্তি সে ভোগ করবে। এ বিষয়ে আমার বলার কিছু বলার নেই।’
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন জানান, এঘটনায় শিক্ষিকা শীলা রাণী দাস মানহানি ও হুমকির অভিযোগ করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্কুল কমিটির সভাপতির স্ত্রী হুমায়রা আক্তার রিয়ার বিরুদ্ধে একটি জিডি করেছেন।