• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন |

বিএনপির টার্গেট জানুয়ারি

BNP Flagসিসিনিউজ: আগামী বছরের শুরুতে নতুন নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে কর্মপন্থা ঠিক করছে দলটি। এজন্য রোজার পরই শুরু হবে আন্দোলনহাসান মোল্লা আগামী বছরের শুরুতে অর্থাৎ জানুয়ারিতে নতুন নির্বাচনের টার্গেট নিয়ে কর্মপন্থা ঠিক করছে বিএনপি। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতেও হাইকমান্ড নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন বছরের শুরুতে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য রোজার পরেই আন্দোলন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বহির্বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোরও চেষ্টা চলছে।
বিএনপির এক সিনিয়র নেতা জানান, আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আর সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে, রোজার পর ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ করে সরকারকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেবেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে নতুন নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ না করলে হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি শুরু হবে। তখনই বিদেশিরা দ্রুত নির্বাচনের ব্যাপারে সরকারকে চাপ দেবে।
বিএনপি নেতাদের ধারণা, বিদেশিদের মধ্যস্থতায় ‘দ্রুততম’ সময়ে আরেকটি নির্বাচন হবে বাংলাদেশে। যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী দেশগুলো এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে বিএনপি নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন।
জানা গেছে, মার্কিন ‘প্রেসক্রিপশন’ অনুযায়ী বিএনপি তাদের কর্মপন্থা তৈরি করছে। আগামী দুই মাস সরকারকে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের তাগিদ দেয়া হবে। এভাবে রোজা পর্যন্ত সময় পার করবে দলটি। যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে দলটি আপাতত কঠোর কর্মসূচি থেকে বিরত আছে বলেও সূত্রটি মত দিয়েছে।
নির্বাচনের পর বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার সঙ্গে বিএনপির একাধিক নেতা একান্তে বৈঠক করেছেন। ওইসব বৈঠকের বরাত দিয়ে বিএনপি নেতারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের বিজেপি সরকারকে নিয়ে বাংলাদেশে আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষে দলের একটি প্রতিনিধি দল খুব শিগগির ভারত যেতে পারেন। শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানাতেই দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ভারত সফর করবেন। এরপর দ্রুত খালেদা জিয়াও ভারত যেতে চান। রোজার পর পরই এই সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সফরের লক্ষ্য- বাংলাদেশে আরেকটি নির্বাচনের জন্য বিজেপি সরকারের সহযোগিতা চাওয়া।
সূত্র জানায়, আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপের পাশাপাশি আন্দোলন বেগবান করার মতো শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জুনের শুরুতেই ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংগঠনের সব দুর্বলতা দূর করা হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, আগামী বছরের শুরুতেই নির্বাচন করার পরিকল্পনা নিয়েই সব ধরনের কর্মপন্থা ঠিক করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গত ১০ মে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া খুবই দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, আগামী বছরের শুরুতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য দলীয় নেতাদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। তবে কীভাবে আরেকটি নতুন নির্বাচন হবে, তা স্পষ্ট করেননি। ভারতে কংগ্রেস সরকারের ‘পতনের’ পর দ্রুত নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি আরো বেশি আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বলেও মন্তব্য করেন স্থায়ী কমিটির এই নেতা।
বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা জানান, গত সপ্তাহে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তার সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন খালেদা জিয়া। আলাপে আগামী মাস ছয়েকের মধ্যে আরেকটি নির্বাচন হবে_ এমনই ইঙ্গিত দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, সরকার বেশি দিন টিকতে পারবে না। কীসের ভিত্তিতে খালেদা জিয়া এ কথা বললেন_ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বিভিন্ন মাধ্যমে তার কাছে অনেক খবর আসে। হয় তো সেইসব সূত্র থেকে তিনি খবর পেয়েছেন। তবে খালেদা জিয়া তাকে বিস্তারিত কিছু বলেননি বলে জানান তিনি।
স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন হবে এমন কথা খালেদা জিয়া তাকেও বলেছেন। পাশাপাশি এও বলেছেন, ‘আমি যেখানেই থাকি নির্বাচন হবে এটা নিশ্চিত। আপনারা প্রস্তুত থাকবেন।’
‘আমি যেখানেই থাকি’- খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যের অর্থ কী জানতে চাইলে ওই নেতা বলেন, ম্যাডাম মনে হয় ভাবছেন, সরকার তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠাতে পারে। এ জন্য তিনি হয় তো এ কথা বলেছেন। এ ছাড়া আর কী হবে?
কবে নাগাদ নতুন নির্বাচনের দাবি আদায় করতে পারবেন_ এমন প্রশ্নের জবাবে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. অব. মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকার জনগণের কাছে পচে গেছে। জনগণ এ সরকারের প্রতি খুবই রুষ্ট ও ক্ষুব্ধ। তারা নতুন নির্বাচন চায়। জনগণের বিশ্বাস, দ্রুত নির্বাচন হবে। তারা জনগণের সেই বিশ্বাসকে লালন করেন। আর নির্বাচন শুধু বিএনপির নয়, জনগণের। তা জনগণই নিজেদের দাবি আদায় করবে।
উৎসঃ   যায়যায়দিন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ