সিসিনিউজ: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) সেমিস্টার ফি ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪০০ টাকা করার ঘোষণা দিলেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। রোববার সেমিস্টার ফি প্রত্যাহারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন তারা। তাদের দাবি সেমিস্টার ফি সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আন্দোলনকারীদের বাগবিতন্ডার হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার ফি সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিতে রোববার সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চতুর্থ দফা আলোচনায় সেমিস্টার ফি ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪০০ টাকা ধার্য করলেও শিক্ষার্থীরা অবস্থান প্রত্যাহার করেননি। তারা সেমিস্টার ফি সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। ফলে শিার্থীরা তাদের অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এর আগে গত বৃহষ্পতিবার প্রশাসনিক ভবন ও ভিসির কার্যলয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এদিকে সেখানে প্রশাসন ও পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে রোববার তালা দিতে পারেনি তারা। আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের দিকে আসলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বাধা দেয়। এ সময় প্রশাসনের সাথে শিক্ষার্থীদের বাগবিতন্ডা হয়। এরপর তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের সব গুলো অনুষদ ঘুরে আবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে আসেন। সেখানে তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এদিকে কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাগবিতন্ডার সময় আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার ও তাদের কোনো কাস বা পরীক্ষাও নেয়া হবে না বলে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিেেযাগ করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও প্রশাসনিক ভবনের সামনে পুলিশ নিয়ে শিক্ষকরা পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছেন। এসময় শিক্ষকরা ৫ মিনিটের মধ্যে আন্দোলনকারীদের ওই স্থান ত্যাগ করতে বলেন। না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলেও হুমকি দেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা তাদের আন্দোলন অবৈধ বলে উল্লেখ করেন। এদিকে শিক্ষকরা দাবি করেছেন আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। শিক্ষার্থীরা কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছে বলেও অভিয়োগ করেছেন তারা। এ ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. আবু হাদী নুর আলী খান বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের নাম ধরে উল্টাপাল্টা শ্লোগান দিচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, এক টাকাও সেমিস্টার ফি দেব না আমরা। আমরা পুরো সেমিস্টার ফি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবেই। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. হারুণ অর-রশিদ বলেন, সেমিস্টার ফি প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে কাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। কিন্তু তারপরেও শিক্ষার্থীেদের একটি অংশ আন্দোলন করছে। তারা মূলত বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতেই এমন আন্দোলন করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো: রফিকুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। তার পরেও কেন তারা আন্দোলন করছে তা আমার বোধগম্য নয়। এদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। বাম ছাত্রসংগঠন সাধারণ ছাত্রদের দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। উল্লেখ্য, ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের উপর ১ হাজার ২০০ টাকা সেমিস্টার ফিসহ, টিএসসি উন্নয়ন, ছাত্র সংসদ ও ইন্টারনেট ফি বাবদ অতিরিক্ত টাকা ধার্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। এর ফলে তাদের পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করতে সব মিলিয়ে ১ হাজার ৭৮০ টাকা লাগত। এখন ৮০০ টাকা কমানোর ফলে ৯৮০ টাকা লাগবে। গত বছর থেকে দফায় দফায় আন্দোলন চলার পরও এই সেমিস্টার ফি বহাল রাখা হয়েছে।