সাহবাজ উদ্দিন সবুজ: সৎ, দৃঢ় ও আদর্শ লক্ষ্য স্থির করে তা হাসিলে বদ্ধ পরিকরাই আগামী দিনের কারিগর। এই কারিগরদের হাত ধরেই কেটে যাবে অমাবশ্যার অন্ধকার। নতুন ভোরের এক সোনালি আভায় ফুটে উঠবে চারপাশ। তবে জুলুমের বিরুদ্ধে উচ্চকন্ঠে রুখে দাঁড়াবার এই কাফেলার সৈনিক খুব কম। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকন্ঠে প্রতিবাদকারী পৃথিবীতে হাতে গোনা। সংখ্যা কম হলেও এদের গতানুগতিক ধারা শেষ হবার নয়। আঁধার ভাঙার স্বপ্ন ও শপথ নিয়ে সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়াই তাদের কাজ।
সৎ উদ্দেশ্য আর দৃঢ় সংকল্পে সাফল্য অনিবার্য। জীবনকে অন্ধকারে নিমজ্জিত না করে কল্যানের পরশ পাথরে মাখিয়ে এবং নিজেকে আত্মপ্রকাশে প্রয়োজন সৎ ও দৃঢ় সংকল্পের। ধারাবাহিক সংগ্রামের মাধ্যমে প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করে আঁধারকে বিদায় ও কাঙ্খিত স্বপ্নকে ছিনিয়ে আনাই আজ সময়ের দাবী। সামাজিক দায়বদ্ধতা হিসেবে জীবনে প্রত্যেকের করণীয় সমাজের আগাছা পরিস্কার করে একটি সুন্দর বাগান নির্মাণ। আর এই সামাজিক দায়বদ্ধতা মূলত তরুণ সমাজ থেকে শুরু হয়। এদের সহজাত ধর্মই হচ্ছে পুরানোকে ছেড়ে নতুনের পানে ছুঁটে যাওয়া। এদের স্বপ্ন ও শক্তি অসীম। এরাই পারে ভাঙাতে বা গড়তে। একজন তরুণ নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই সমাজ বিনির্মাণের যে মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে তার বাস্তব প্রতিফলণ ঘটানো সম্ভব। তবে অবশ্যই তরুণদের সৃজনশীল, সৎ, নিষ্ঠা, আর্দশ, চরিত্র তথা তরুণ্যের রংধুর মোড়কে মোড়ানো সিলেবাসের আলোকে এই পথে নিজেদের পরিচালিত করতে হবে। আজকের নতুন প্রজম্ম আগামীর কর্ণধার। উচু ভবন নির্মাণের জন্য যেমন শক্ত খুঁটির প্রয়োজন। তেমনি সুন্দর, সাবলীল ও আলোকময় সমাজ প্রতিষ্ঠায় আজকের তরুণকে শক্ত খুঁটির ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। তবেই সমাজ ও নিজ জীবনে স্বার্থকতা নিহিত হবে।
তবে আঁধারের কথা না বললেই নয়। আজকের তরুণ সমাজকে ভাঙার কাজে ব্যবহার করছে প্রভাবশালীরা। কেউ কেউ এদের ঠেলে দিচ্ছে মাদক জগতের অতল গহ্বরে। তারা আজ ক্ষমতা পালা বদলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তরুণরা আজ মাস্তান, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, টেন্ডারবাজ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক সেক্টরগুলোতে চলছে অস্ত্রের ঝনঝনানী। এমন দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে পড়ালেখা শিখে কেউ আর দেশের কর্ণধার হতে চান না। । অথচ এরা মেধাবী । তবে মেধার সাথে নৈতিক ও চারিত্রিক মাধুর্যের সমন্বয় না থাকার কারণে এই দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে।
এভাবে চলতে পারে না, চলতে দেয়া যায় না। সংখ্যায় কম হলেও আঁধার ভাঙার স্বপ্নে যারা বিভোর, আদর্শ সমাজ গড়ার চিন্তা চেতনা যাদের মধ্যে কাজ করে তাদের মেধা ও মনন নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। গড়তে হবে ঐক্য ও ঐক্যবদ্ধ সমাজের জন্য কাজ করতে হবে। হ্যাঁ, ভাবার আছে দেশ নিয়ে। অনেক অনেক সমস্যা, তার চেয়ে বেশি সম্ভাবনা। কিন্তু সবাই শুধু ভাবলেই কি হবে? কেউ যদি এগিয়ে না আসেন, আদৌ কি হবে দেশের সমস্যাগুলোর সুরাহা? আর এগিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় সবার আগে পা বাড়াবে স্বপ্ন দেখা এসব তরুণরা। চোখের আলোয় ঝলমল করে ওঠা এদের স্বপ্নই বলে দেয়, দেশের জন্য তারা কিছু করতে চায়। ভবিষ্যতের চেঞ্জমেকাররা উঠে আসবে এদের মধ্য থেকেই।
শুধু সস্তা স্লোগান সমাজকে বদলে দিতে পারে না। সমাজ বদলের ও একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের পূর্বশত হল, সেই সমাজের মধ্যকার লোকচারিত চিন্তাচেতনা, মন মানসিকতা, সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং ইতিহাস ঐতিহ্যগত কার্যকরণের সমন্বিত কর্মপ্রক্রিয়া দ্বারা প্রভাবিত একদল সমাজকর্মী। সেই সমাজ বদলের সৈনিক হতে হবে তরুণদের, যারা নিজেরা বদলে যাবে তারপর সমাজকে বদলে দেবে। আর সে সমাজ হবে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত সুন্দর সমাজ।
অমিত শক্তিধর তারুণ্যকে চারিত্রিক ও আদর্শিক শক্তির বলে বলীয়ান হয়ে জীর্ণজরাকে ঝরিয়ে দিয়ে নতুন সৃষ্টি ও সম্ভাবনার পথ নির্মাণ করতে হবে। আজ নষ্ট প্রায় সমাজের জন্য বড়ই প্রয়োজন নিষ্ঠাবান এসব তরুণের, যাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে সমাজের বঞ্চিত মানুষ। বজ্রকঠিন এই কাফেলাকে সকল জুলুম, অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের একটাই প্রত্যাশা সময়ের সাহসী সৈনিক তারুণ্যের বিজয়ের পতাকা উড্ডীয়মান হবেই।
লেখক: রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র ও তরুণ সাংবাদিক