কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে হঠাৎ করে উজানের পানি ও গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ছোট-বড় ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে সদর উপজেলার ধরলা, রাজারহাট উপজেলার তিস্তা ও উলিপুর, রৌমারী, চিলমারী এবং রাজিবপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। তবে গত দুদিনে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় এসব এলাকার নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকাসমুহে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন।
জেলার সদর উপজেলার যাত্রাপুর, পাঁচগাছি, কদমতলা ও মোগলবাসা ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি গত এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
এতে ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়েছেন। রাজার হাট উপজেলার তৈয়বখাঁ, ঘড়িয়ালডাঙ্গা, ঠুটাপাইকরসহ কয়েকটি স্থানের মানুষজনের জমিজমা ও বাড়িঘর নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উলিপুর উপজেলার মানুষরা।
এখানে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে গত দুই সপ্তাহে সাড়ে ৩ শতাধিক ঘর বিলীন হয়ে গেছে নদীগর্ভে।
নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পার্শ্ববর্তী বাঁধের রাস্তা ও উঁচুভিটায় আশ্রয় নিয়ে কোনো রকম দিন কাটাচ্ছেন।
তিস্তার ভাঙনে দলদলিয়া ইউনিয়নের কর্পূরার চর, চর অতিদেব গ্রামের প্রায় ২৫টি, থেতরাই ইউনিয়নের হোকডাঙ্গা, খারিজা, জুয়ান সাতরা, গোড়াইপিয়ার চর গ্রামের ৫০টি, গুনাইগাছ ইউনিয়নের কাজির চক, সন্তোষ অভিরাম গ্রামের একশ’টি ঘর ও আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এছাড়া বজরা ইউনিয়নের বগুলাকুড়া ও সাদুয়াদামার হাট, চর বজরা গ্রামের ৯০টি ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও একশ’ গজ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
গত দুুই সপ্তাহে ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে হাতিয়া ইউনিয়নের চর গুজিমারী গ্রামের শতাধিক ঘর ও বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের আক্কেল মামুদ গ্রামের ২টি ঘরবাড়ী ও আবাদী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
এছাড়া রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার বেশকিছু নদী তীরবর্তী এলাকা নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।
জেলা প্রশাসক এবিএম আজাদ জানান, বর্ষা মৌসুমে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদীর পানি অস্বাভাবিকহারে বেড়ে যাওয়ায় নদী ভাঙনের শিকার হন এখানকার মানুষ। তবে ইতোমধ্যেই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কোনো রকম সাহায্য পেলে নদী ভাঙনের শিকার মানুষগুলোকে সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।