মোঃ সাহ্বাজ উদ্দিন সবুজ: অন্ধকার ভেদ করে সহসা জেগে উঠুক নতুন এক আলোর ঝলকানি। যে আলোতে আলোকিত হোক চতুর্দিক। নতুন ভোরের সূর্যের এক সোনালি আভায় অন্ধকারকে কাটিয়ে চারপাশ আলোকিত হবে । পাখিরা ডানা মেলে উড়বে আর আকাশে ভেসে বেড়াবে নীলাভ মেঘ। আর সেই দ্যুতিতে ঝলমল করবে পুরো সমাজ। নতুনত্বের ডাকে সবাই চলে আসবে সত্য ও প্রশান্তির ছায়াতলে। সব অন্যায়, অপশাসনের নাগপাশকে পাশ কাটিয়ে দুর্বার গতিতে সামনে এগিয়ে যাবে সত্যের কাফেলা। আর এই কাফেলার সৈনিকদের খ্যাতি ও সাহস নিঃসন্দেহে গগণচুম্বী। অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে যারা ক্রমাগত রণকৌশলের স্বাক্ষর রাখবে। আর এরাই স্থান করে নিবে ইতিহাসের সোনালি হরফে। নিঃসীম আঁধারের জড়তা কাটিয়ে সময়ের সহসী ও সত্যবাদীদের অব্যাহত পথচলার নতুন দিশারী হয়ে উপস্থিত আনন্দ ও নতুনের বার্তা। মহান রবের অপার করুণা, রহমত আর মাগফেরাতের স্রোত পেরিয়ে যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ অর্জিত হয়েছে তা দিয়ে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের সব পাপ-পংকিলতা, ত্রুটি-বিচ্যুতিকে খড়কুটোর ন্যায় ভাসিয়ে দিতে ঈদের আগমণ।
অস্থিরতা মূল্যবোধহীনতায় যখন সমাজ অশান্ত সেই সময়ে অন্ধকার দ্বীপে হঠাৎ জ্বলে ওঠা আলোকরশ্মির মতোই পবিত্র ঈদ এক নতুন জীবনের হাতছানি দিচ্ছে রণকৌশলে স্বাক্ষরকারী নাবিকদের। রমজানের প্রশিক্ষণ নিয়ে আল্লাহর রঙে নিজের মন-মননকে রাঙিয়ে চিরকল্যাণকর পথে হাঁটবার জন্য হাতছানি দিয়ে ডাকছে তারা। আজ সময় এসেছে প্রভুর বিধান কায়েমের সে ডাকে সব কিছুকে পিছে ফেলে দুর্দান্ত বেগে ছুটে চলার। মহাবিশ্বের ক্রান্তিলগ্নে পৌঁছাবার দীর্ঘ সফরে পাথেয় সংগ্রহ করার। পরিশুদ্ধ জীবন নিয়ে মহান প্রভুর দরবারে যাবতীয় অপারগতা, নফসের দুর্বলতাকে সোপর্দ করে আনুগত্যের শির নত করবার, সিজদাবনত হওয়ার। সমাজের কলুষতাকে নিশ্চিহ্ন করে দেবার। সময়ের সাহসী যোদ্ধাদের হাতে হাত রেখে আমাদের লড়ে যেতে হবে সুন্দর পরিস্ফুটিত সমাজ বিনির্মাণের জন্য। পবিত্র রমজানের প্রশিক্ষণ ও নেয়ামতকে কাজে লাগিয়ে মহান প্রভুর নৈকট্য লাভ করে আমরা শামিল হবো অগ্রগামীদের কাতারে। তবেই সমাজকে পরিশুদ্ধ, পবিত্রতার আবহে সাজানো যাবে নতুন করে। এই হোক এবারে ঈদের প্রত্যাশা- ঈদ মোবারক।
লেখক- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র ও তরুণ সাংবাদিক