খুলনা : দীর্ঘ ১৩ মাস লে-অফ থাকার পর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে খুলনার শিরোমনির মহসেন জুট মিলস লিমিটেড। বৃহস্পতিবার স্থায়ীভাবে মিলটি বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। সেইসঙ্গে মিলটির অধিকাংশ শ্রমিক, কর্মচারী ছাঁটাই করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, লে অফ ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার মিলটি চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার রাতে মিলটির নির্বাহী পরিচালক তাওহিদ-উল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ টানানো হয়। নোটিশে মিলটি স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং এর শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিক-কর্মচারীরা মিলগেটে গিয়ে নোটিশটি দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় নিরাপত্তা রক্ষীরা শ্রমিকদের মিলে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
মিল বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাই প্রসঙ্গে এমডি খোরশেদ আলম বলেন, ইতোমধ্যে ৩৯০ দিন লে-অফ অতিক্রম হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা না থাকা, উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য অনেক কম হওয়া এবং ব্যাংক লোন না পাওয়ায় মিল প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কিনতে পারছে না। এছাড়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের আর্থিক সংস্থান না থাকায় মিল কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে সেটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে কোনো প্রকার পাওনা না দিয়ে মিলটি হঠাৎ বন্ধ ঘোষণা করায় চরম বিপাকে পড়েছেন মিলটির শ্রমিকরা। তাদের মধ্যে এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মহসেন জুট মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সুলতান মোল্লা বলেন, ‘শ্রম আইন লঙ্ঘন করে তাদের মজুরি পরিশোধ ছাড়াই সব শ্রমিককে একযোগে ছাঁটাই করে মিলটি স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছে।’ শ্রমিক অসন্তোষ ছাড়াই তারা পূর্বেকার মজুরি নিয়েই কাজ করে যাচ্ছিলেন।’
মিলের সিবিএ সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল খান বলেন, মিলের মালিক শ্রমিকদের কোনো পাওনা না দিয়ে শ্রম আইন বহির্ভুতভাবে সকল শ্রমিককে একযোগে ছাঁটাই করেছে। শ্রমিক পরিবারগুলোকে পথে বসিয়েছে।’
তিনি অবিলম্বে মিল চালু, শ্রমিকদের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার দাবি জানান। অন্যথায় মিল মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।