হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা: নীলফামারীর জলঢাকায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষন টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে অর্থ হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে প্রশাসন ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বিরোধ চরমে। জানা যায়, গত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ও উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের প্রকল্পে কাজ না করেই বিল সরবরাহ করায় এমন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রকল্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রকল্প সভাপতি স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতা হওয়ায় তারা কাজের কাজ কিছুই না করে বিল নিতে ধর্না দিচেছ উপজেলা প্রশাসনের কাছে। আর এ কাজগুলোর তদারকি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। পিআইও অফিস সুত্রে জানা যায়, ৩৮টি কাবিখা প্রকল্পের বিপরীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদের দেওয়া ৩৯৯ মেঃটন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এদিকে ৩৮টি প্রকল্পে একই ভাবে ৮৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা কাবিটা বরাদ্দ দেওয়া হয় উপজেলাটিতে। ৯৩টি প্রকল্পে বিপরীতে এমপির বরাদ্দকৃত টিআর১১৯ মেঃ টন গম দলীয় নেতাকমীদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে, লুটপাটের ভয়াবহ চিত্র! কোন প্রকল্পে ২৬ ট্রলি বালু দিয়ে ৯ টনের কাজ সমাপ্ত করেছে। আবার কোথাও কাবিটার কাজে ১ কোদাল মাটিও পড়েনি। ৪০ দিনের কর্মসুচীর লোক দিয়ে বেশির ভাগ প্রকল্পের সমাপ্তি টেনেছেন জনপ্রতিনিধিরা। মিরগঞ্জ ইউনিয়নের পাঠান পাড়া পূর্ব শিমুলবাড়ী রাস্তা সংস্কার প্রকল্পের সাধারন সম্পাদক ও ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন,‘আমার প্রকল্পে ১৩ মেঃ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমাদের ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সম্পাদক টনপ্রতি আমাদের কাছে ২ হাজার টাকা করে নেয়। তিনি আরও বলেন, চড়ান্ত বিল পর্যন্ত পিআইওকে টনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। আর বাকি টাকা দিয়ে যা কাজ হয় তাই করেছি’। এদিকে কাজের কাজ কিছুই না হওয়ায় চুড়ান্ত এসব প্রকল্পের বিল তৈরি করতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বিরোধ চরম আকার নিয়েছে। এবং প্রকল্প সভাপতি, ও ডিও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি ৩০ জুন রাতে এক ঠিকাদার প্রতিনিধির হাতে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত হন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজিবর রহমান। এছাড়া স্থানীয় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক টাকা ভাগাভাগির বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা হাসান হাবিবের কাছে জানতে চাইলে ইউএনও তার সাথে অসৌজন্য মুলক আচরণ করলে তিনি সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। এবিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও গোলনা ইউনিয়ন ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আলম কবির প্রশাসনের সাথে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বিরোধের ব্যাপারে বলেন, ‘ভেদাভেদ ভুলে শেখ হাসিনার দেশ গড়ার আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়াই আমাদের মুল লক্ষ্য। এখানে বিরোধের কিছু নেই’। এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজিবর রহমান কাজ না করে বিল নেওয়ার ব্যাপারে প্রকল্প সভাপতি সরকার দলীয় হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছি না’।
এমপি না আসায় এতিমদের ক্ষোভ
নীলফামারীর জলঢাকায় দরিদ্র এতিম শিশুদের নিয়ে গঠিত উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের মন্থের ডাঙ্গা মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় গত রবিবার ইফতার মাহফিলে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফাকে প্রধান অতিথি করলেও তিনি সেখানে আসেননি। এনিয়ে অসন্তোষ ক্ষোভ জন্ম নিয়ে কোমলমতি এতিম ওই শিশুদের মাঝে। ইফতার মাহফিল উপলক্ষে বেশ কয়েকদিন থেকে দাওয়াত কার্ড ও মাইকিং করে প্রচারনা চালায় স্থানীয় পৌর ছাত্রলীগ। এতিমদের নিয়ে ছাত্রলীগের আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটিতে এমপি না যাওয়ায় হতাশ হয়েছে নেতাকর্মীরা। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আতিয়ার রহমান বলেন, এমপি স্যারের আসার কথা শুনে এতিম ছাত্ররা খুব খুশি হয়েছিল কিন্তু তিনি না আসায় অনেক কষ্ট পেয়েছে এতিম ছাত্ররা। এব্যাপারে এমপি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফার সাথে বলে তিনি অসুস্থতার কথা বলে বিষয়টি এরিয়ে যান। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে পরে এতিমদের মাঝে ১০টি কোরআন শরীফ বিতরণ করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত মাহফিলে বক্তব্য রাখেন, প্রভাষক মাওলানা সাইফুজ্জামান সালাপি, উপজেলা যুবলীগ নেতা সারোয়ার রশিদ, পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি আহসান হাবিব সাহেদ ও সম্পাদক রাসেল প্রমুখ।