সিসিনিউজ: পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের একদিন আগে ঈদের নামাজ আদায়ের চেষ্টা করায় স্থানীয় শত শত ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা কথিত জামাতে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এ সময় মুসুল্লিরা সুপার কামাল ও তার সঙ্গীদের ঘিরে রাখে। এতে ছয় ব্যক্তি আহত হয়েছে। আহতরা হচ্ছেন- গালিব হাসান (কামালের ছেলে), আলমগীর (ভাই), জসিম, জামাল (ভাই), জাফরী মোছাদ্দেকা (ভাতিজী) ও চরফ্যাশন উপজেলার খোরশেদ মাওলানা।
সোমবার ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের আনিচল হক মিয়ার বাজার মুসলিম মৌলভী (র.) বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকার মুসলিমিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার কামাল উদ্দিন (সুপার কামাল) স্থানীয় কয়েকজন লোক নিয়ে ঈদের একদিন আগে ঈদ পালনের চেষ্টা করলে এলাকার মুসুল্লিরা তার উপর হামলা চালায়। এতে ওই সুপারের ভাই ও ছেলে গালিব আহত হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় তিন-চারজন লোক নিয়ে নামাজ আদায় করে সুপার কামাল। তার এক অনুসারী জানিয়েছে, পবিত্র মক্কা নগরীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঈদ পালন করতে চান তারা।
ওই এলাকার আঃ রশিদ, হাসমত আলী, আব্বাস উদ্দিনসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ইসলাম ও রাষ্ট্রীয় নিয়মের তোয়াক্কা না করে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্যই সুপার কামাল ভণ্ডামী শুরু করেছে। কামাল একজন “ভণ্ড ও প্রতারক” এমন অভিযোগ করে তারা বলেন, এ ব্যক্তি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন। সমাজের প্রচলিত ও রাষ্ট্রীয় নিয়ম মানেন না তিনি। ২০১১ সাল থেকে এই এলাকায় তিনি (কামাল) ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে বিবেদ সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছেন। ঈদের আগে ঈদ করা নিয়ে প্রতিবারই এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ কাজে তাকে বিরত থাকতে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসালমানরা অনুরোধ করেছে। কিন্তু তিনি কোনো কথাতেই কান দিচ্ছেন না।
তার একগুয়োমীর কারণেই এলাকাবাসী তার উপর ক্ষিপ্ত। কামালের এ কাজে এলাকাবাসীর কোনো সমর্থন নেই উল্লেখ করে স্থানীয় মুসুল্লিরা বলেন, কামাল সোমবার সকালে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে রোজাদারদেরকে ধরে ধরে নাস্তা খাওয়ান এবং ঈদের নামাজে যেতে বাধ্য করেন। কামালের আহ্বানে তার পরিবারের সদস্যরাও সারা দেয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিল বেতন বন্ধ করার ভয় দেখিয়ে ঈদের আগে ঈদ করতে বাধ্য করে সুপার কামাল।
সোমবার বিতর্কিত ঈদের নামাজে তার মাদ্রাসার কর্মচারী শফিউল্লাহ, শিক্ষক মাওলানা নিরব, সহকারী শিক্ষক জামাল (সুপারের ভাই), জসিম, ও তৈয়বসহ পাঁচজন শিক্ষক ছাড়া কেউ নামাজে অংশ নেয়নি।
সমাজে শান্তি ভঙ্গের দায়ে সুপার কামালের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। তারা বলেন, তার এ ধরণের ভণ্ডামী চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরো খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এজন্য তার বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। স্থানীয়রা বলেন, জোর করে কারো রোজা ভাঙানোর চেষ্টা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের সামিল। এসব ভণ্ডদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসী সকালে মিছিল করেছেন।
এ ব্যাপারে সুপার কামাল বলেন, সৌদি আরবের মুসলমানদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কয়েক বছর ধরে এখানে ঈদ পালন করেছি। কিন্তু পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্ধের কারণে একটি গ্রুপ আমাদের বাধা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ঈদের নামাজ পড়তে গেলে তার ছেলে গালিব হাসান, ভাই আলমগীর, জসিম, জামাল, জামালের মেয়ে জাফরী মোছাদ্দেকা ও চরফ্যাশন উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের চর নুরুলআমিন গ্রামের লতিফিয়া ইসলামীয়া আলিম (প্রস্তাবিত ) মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা খোরশেদ আলমকে পিটিয়ে জখম করে স্থানীরা। এ ব্যাপারে তিনি স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আনিচল মিয়া ও তার ছেলেদের দায়ী করেন। পরিস্থিতি বুঝে তিনি পুলিশে খবর দেন।
এ ব্যাপারে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তারুজ্জামান শীর্ষ নিউজকে জানান, একদিন আগে ঈদের নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসুল্লিরা ঝামেলা করতে চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফলে বড় ধরণের কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। উৎস: র্শীষনিউজ