সিসিনিউজ: সন্তানদের উচ্চ শিক্ষিত করতে স্কুল শিক্ষক পিতা এখন নিঃস্ব। বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’সন্তানের ভর্তির সময়ে বিক্রি করেছে শেষ সম্বল আবাদি জমিটুকু। প্রথম ৬মাসেই সন্তানদের পড়াশুনার খরচ যোগাতে সমিতি এবং এনজিও থেকে নিয়েছে মোটা অঙ্কের ঋণ। মাস শেষে ওই ঋণের সুদ ও কিস্তি দিয়ে মাত্র ১’শ টাকা নিয়ে ওই শিক্ষক ফিরছে নিজ গৃহে। সত্যিকারের এমন গল্পের কাহিনী ফুটে উঠেছে দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দরের এক প্রত্যন্ত গ্রামে।
অমূল্য চন্দ্র রায়। দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ভুষিরবন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ওই উপজেলার ১১নং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের সিংগানগর গ্রামে জীর্ণ কুটিরে তাঁর বসবাস। তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে সবার বড় প্রেমানন্দ রিক্সা ভ্যান চালিয়ে সংসারে চাকা সচল রাখতে দিনরাত সমান তালে চেষ্টা করছে। দ্বিতীয় সন্তান ডলি রানী। বর্তমানে সে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্রী। সবার ছোট সুমন চন্দ্র রায় হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারী এন্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদের ডক্টর অব ভেটেরিনারী মেডিসিন (ডিবিএম) বিভাগের ছাত্র। এই দুই মেধাবি সন্তানের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিঃস্ব হয়েছে বাবা অমূল্য। সন্তানদের ভর্তির সময়ে আবাদি ১০ কাঠা জমি বিক্রি করে দিয়েছে। পরবর্তীতে সন্তানদের বইপত্র ও পড়াশুনা এবং সংসারের খরচ যোগান দিতে গিয়ে ঋণের বেড়াজালে আটকা পড়েন তিনি। স্থানীয় সোনালী ব্যাংক, ক্যালব ও গ্রামের সমিতি থেকে নিয়েছে ঋণ। যা এখন ওই পরিমান দাড়িয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
শিক্ষক অমূল্য ভারাক্রান্ত কন্ঠে জানান, ওইসব ঋণের কিস্তি ও সুদ দেয়ার পর মাসিক বেতনের সম্পুর্ন শেষ হয়ে যায়। মাত্র ১’শ টাকা ফতুয়ার পকেটে ভরে বাড়ি ফিরেন। তিনি জানান, খরচের অর্থ যোগান দিতে গিয়ে প্রতি মাসে ঋণের পরিমান বাড়ছে। তাই মেয়েকে পড়াশুনার পাঠ শেষ না করেই এক মাস পূর্বে বিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছি এবং ছেলেকে দিনাজপুরের সৎসঙ্গ বিহার আশ্রমে রেখে পড়াতে হচ্ছে। এখন পড়াশুনার প্রয়োজনে পুত্র সুমন একটা ল্যাপটপের বায়না ধরেছে। কিন্তু কোথায় পাবো এতো টাকা? ঋণের পরিমান জেনে কেউ আর ঋণ দিতে চায়না।
কথা হয় সুমনের সাথে। জলভরা কন্ঠে সে জানায়, দরিদ্র বাবার কাছে ল্যাপটপ চেয়েছি কিন্তু জানি বাবার পক্ষে তা সম্ভব হবে না। সে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।