সিসি ডেস্ক: ছাত্রলীগের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।
রোববার দুপুরে ইবি ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক মিছিল করেছে নেতাকর্মীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়।
ওই সমাবেশ থেকে আগামীকাল সোমবার থেকে ইবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেয় ছাত্রলীগ নেতারা।
এর আগে দুপুরে উপাচার্যের গাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইবি ক্যাম্পাসে পুলিশ- ছাত্রলীগে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশসহ আহত হয় অন্তত ২৫ জন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন তিন কর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গাজায় ইজরাইলী হামলার প্রতিবাদে দুপুরে ইবি শাখা ছাত্রশিবির অনুষদ ভবনের সামনে থেকে মিছিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ খবর পাওয়া মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের নেতৃত্বে প্রক্টরিয়াল বডি এবং ছাত্র-উপদেষ্টা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিবিরকে মিছিল করতে নিষেধ করে। এসময় তাদের সঙ্গে শিবির নেতাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এক পর্যায়ে প্রক্টরিয়াল বডি শিবিরের ব্যানার ছিনিয়ে নেয় এবং ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলে। এতে শিবির তার কর্মসূচি স্থগিতের কথা বললেও কৌশল খাটিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে তাদের সহস্রাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।
এদিকে, ছাত্রলীগের সম্ভাব্য কমিটিকে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে শিবিরের এমন মিছিল অনৈতিক দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ তাৎক্ষণিক একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল চলাকালে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া দ্বিতল বিশিষ্ট বাসসহ পাঁচটি বাস, প্রশাসন ভবনের কিছু কক্ষ এবং প্রক্টরের অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
এক পর্যায়ে যখন তারা উপাচার্য, উপ-উপাচার্যের গাড়িতে হামলা চালায় তখন পুলিশ তাদের বাধা দেয়। বাধার মুখে তারা পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার গুলি ছোঁড়ে। এসময় ছাত্রলীগও পুলিশকে লক্ষ করে ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয় তিনজন।
আহতরা হলেন- ছাত্রলীগের মিজু, সোহেল, তন্ময়, শাহিন, আরব আরী, পলাশ, পুলিশ কনস্টেবল তরিকুল, মনির, তুহিন, গুলিবিদ্ধ, রানু, অমিত, বিপ্লব। এদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে ক্যাম্পাস এলাকায় বড় যে কোনো সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পরে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক মিছিল করে। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে এক সমাবেশে মিলিত হয়। ওই সমাবেশে নেতারা পুলিশের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দেয়। এরপর ইবিতে আগামীকাল সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেয়।
এবিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জনক বলেন, ‘মিছিলের নাম করে ছাত্রলীগ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে এবং ভিসি স্যারের গাড়ি ভাঙচুর করে তখন আমরা তাদের বাধা দিই। এতে তারা আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ইবি প্রক্টর অধ্যাপক ড.মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেয়ার ছয় মাসেও শিবিরকে একটি কর্মসূচিও পালন করতে দেইনি। বাকি সময়টাও দেবনা। কিন্তু কিছু লোক তাদের ব্যক্তিগত এজেন্ডা পালন করতে এ ঘটনা সৃষ্টি করেছে। তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি।
ইবি ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামিম খান বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলাম। এসময় পুলিশ আমাদের ওপর গুলি চালালে নেতাকর্মী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম সরকার বলেন, ‘কি কারণে আমার ছেলেরা হঠাৎ করে চড়াও হলো তা বুঝতে পারিনি। তবে এই ন্যাক্কারজনক কাজের সঙ্গে যারাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকুক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।’