• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন |

হাতীবান্ধায় শিক্ষকের বেত্রঘাতে রক্তাক্ত তাসলিমা হাসপাতালে

hatibandha picলালমনিরহাট প্রতিনিধি: হাতের আঙুল দিয়ে রক্ত ঝড়ছে । সেই রক্ত গড়িয়ে বই খাতা ভিজে গেছে। তবুও খতিবর স্যারের বেত্রাঘাত থামছিল না। বলতে বলতে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে নমব শ্রেনীর মেধাবী ছাত্রী তসলিমা আক্তার (১৪)। বৃহস্পতিবার বিকেলে হাতীবান্ধা শমসের উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক খতিবর রহমানের অমানুষিক নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী এখন হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীসহ অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক নূরজ্জামান বৃহস্পতিবার বিকেলে ছাত্রীদের খেলার মাঠে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেলেন। এমন সময় ওই স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক খতিবর রহমান নবম শ্রেনীর ছাত্রী তাসলিমাকে ডাক দেয়। এতে তার ক্লাসে পৌঁছতে দেরী হওয়ায় শিক্ষক খতিবর তাকে বেধড়ক বেত্রাঘাত শুরু করে। শিক্ষকের বেত্রাঘাতে তাসলিমার বাঁ হাতের আঙুল ফেটে প্রচন্ড  রক্তক্ষরণ হয় তার। শুধু তাই নয় শরীরের বিভিন্ন অংশে অসংখ্যা বেত্রাঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে মেয়েটির গায়।
বৃহস্পতিবার সন্ধায় হাতীবান্ধা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, প্রচন্ড ব্যাথার যন্ত্রণায় কাঁতারাচ্ছে মেয়েটি। পাশে বসে মা এসমোতারা অঝরে কেঁদে চলেছেন। বাবা আব্দুস সালাম মেয়ের চিৎকার চেঁচামেচি দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেননা।
জানতে চাইলে, আব্দুস সালাম বলেন, তিনি সামান্য ভ্যান চালক হলেও ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় বেশ ভাল। মেয়ে তাসলিমা চলতি বছর নবম শ্রেণীতে ৩ রোল করে বাবা-মাকে বেশ খুশি করেছে। সেই মেয়ে আজ শিক্ষকের বেধড়ক পিটুনীতে রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হবে বলতে বলতে ডুকরে কেঁদে উঠেন সালাম।
শিক্ষক খতিবর রহমানের দাবি তিনি তাসলিমাকে বেত্রাঘাত করেননি। তবে ক্লাসের বেঞ্জ লেগে ওই ছাত্রীর আঙুর ফেটে রক্তপাত হয়েছে বলে দাবি খবিবর রহমানের।
এদিকে ওই স্কুলের একাধিক ছাত্রছাত্রীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষক খতিবর রহমান প্রায় শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করেন। এনিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে কয়েক বার সতর্ক করলেও বিরত হননি তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় মেধাবী ছাত্রী তাসলিমাকেও বেধড়ক পিটিয়েছে শিক্ষক খতিবর এমন মন্তব্য অভিভাবকদের।
চলতি বছর ওই স্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রী মনিরা খাতুন জানান, খতিবর স্যার এমন বদমেজাজি যে তাকেও একাধিক ক্লাসে বেত্রাঘাত করেছেন তিনি। একই কথা বলেন এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্র জাহিদ হাসান জয়।
এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরমোহাম্মদ বাবুল বলেন, তিনি গতকাল জরুরী কাজে রংপুরে গিয়েছিলেন। তাই স্কুলের ওই ঘটনাটি তিনি জানেন না। তবে বিষয়টি দেখবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ