• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

নির্বাচন প্রশ্নে কৌশলী বিএনপি

BNP Flagসিসি নিউজ: ভবিষ্যৎ সরকারবিরোধী আন্দোলন আর সাংগঠনিক পুনর্গঠনে ‘পিছিয়ে’ থাকলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনের ‘গোপন প্রস্তুতিতে’ বেশ এগিয়ে আছে বিএনপি। চাপে রেখে সরকার দ্রুত একটি আগাম নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে, এমন আশঙ্কাকে সামনে রেখে সতর্ক কার্যক্রম চালাচ্ছে বিএনপি। সে জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পাশাপাশি ‘রাজনৈতিক’ মামলার কারণে শীর্ষ নেতারা নির্বাচনে অযোগ্য হলে পরবর্তী করণীয় নিয়েও পরিকল্পনা করে ফেলেছে দলটি।

সেক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থী কতটা কার্যকর হবে, সে প্রশ্নে বিদেশি একটি জরিপ প্রতিষ্ঠান দিয়ে পর্যবেক্ষণ চালিয়েছে বিএনপি। অভ্যন্তরীণভাবে বেশ গোপনীয়তায় সারা দেশে এ জরিপ কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। শিগগিরই এর ফলাফল বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে তুলে দেওয়া হবে বলে দাবি সূত্রের।

দলীয় সূত্র জানায়, আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন টার্গেট করে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি। এ লক্ষ্য অর্জনকে কেন্দ্র করেই দল গোছানো থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক লবিং-তদবির জোরদারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। জনসমর্থন আদায়ে নেওয়া হচ্ছে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ কর্মসূচি। সে অনুযায়ী দেশব্যাপী সফর করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মুন্সীগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরে জামালপুরে জনসভা করেছেন তিনি। ঈদের পরে আরো বেশ কয়েকটি জেলায় জনসভা করবেন খালেদা।

সূত্র মতে, রাজনীতির মাঠে এবার কৌশলী ভূমিকা নিতে চায় বিএনপি। দলটির হাই কমান্ড মনে করছে, দলের নেতাকর্মীদের নামে দুর্নীতি মামলাগুলো নির্ধারিত গতিতে চলছে। তৃণমূল থেকে শীর্ষ এমন কোনো নেতা নেই, যার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা নেই। তবে কেউ কেউ রেকর্ড ভেঙে শতাধিক মামলাও লড়ছেন। এ অবস্থায় কঠোর আন্দোলনে নামা মানেই এসব মামলায় শীর্ষ নেতাদের হয়রানি। তাই এই মুহূর্তে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে আর জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করে নভেম্বরের শেষ দিকে কঠোর আন্দোলনে নামতে চায় বিএনপি।

‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ ও ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামেও রয়েছে একাধিক মামলা। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য কিংবা নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ সক্রিয় প্রায় সব নেতার বিরুদ্ধেই রয়েছে অসংখ্য মামলা। কোনো কোনো নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে শতাধিক মামলা। শুধু দলের শীর্ষ নেতাদের ক্ষেত্রেই যে এমন, তা নয়। বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল, যুবদল আর স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রায় প্রত্যেক নেতার বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধিক মামলা।

বিএনপি সূত্র জানায়, দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের বিরুদ্ধে রয়েছে ৪৭টি মামলা। এ ছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এহসানুল হক মিলন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও রয়েছে অসংখ্য মামলা। রাজনৈতিক সহিংসতার এসব মামলার বেশিরভাগই হয়েছে দ্রুত বিচার আইনে।

দলের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, দলটির ঢাকা মহানগর ও সারা দেশে বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সম্ভাব্য অনেক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এমন অসংখ্য মামলা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন বিএনপি। এসব মামলায় সাজা হলে তারা নির্বাচনে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। হেভিওয়েট এসব নেতা নির্বাচন করতে না পারলে ওই সব আসনে নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফলাফল নাও আসতে পারে। সে জন্য আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী একটি দেশের জরিপ প্রতিষ্ঠান দিয়ে পর্যবেক্ষণ চালিয়েছে বিএনপি। উদ্দেশ্য, শীর্ষস্থানীয় ওই সব নেতা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তাদের স্ত্রী অথবা বিকল্প নেতা নির্বাচন করলে জনগণ তাদের কেমনভাবে গ্রহণ করবে। সারা দেশের এমন প্রায় শতাধিক আসন ‘প্রার্থী ঝুঁকিতে’ রয়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে। জরিপের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ শিগগিরই বিএনপি চেয়ারপারসনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

জরিপের খোঁজখবর রেখেছেন বিএনপির এমন একজন নেতা জানান, মূলত রাজনৈতিক মামলাগুলোর কথা বিবেচনায় নিয়ে এমন বিকল্প রাখার চিন্তা-ভাবনা হয়েছে। এটি চূড়ান্ত কিছু নয়।

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করলে এবং শীর্ষ নেতাদের মামলাগুলোয় সাজা হলে তারা নির্বাচন করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে ওইসব এলাকার নেতাদের স্ত্রীরা নির্বাচন করলে জনগণের সহানুভূতি পাবেন। এ ছাড়া ক্লিন ইমেজকে গুরুত্ব দিয়ে বিকল্প নেতাদের জনপ্রিয়তাও দেখা হচ্ছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান  বলেন, ‘সরকার বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে, নির্যাতন করছে। সারা দেশেই তাদের নামে অসংখ্য মামলা আছে। তবে এসব করে সরকার পার পাবে না। দ্রুতই একটি অবাধ নির্বাচন দিতে তাদের বাধ্য করা হবে।’

জরিপ কিছু নয়, বিএনপি যে কোনো সময়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছে বলেও জানান বিএনপির এ নেতা। তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশনসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন করতে হবে। সর্বোপরি সংলাপের মাধ্যমে একটি সমাধানে আসতে হবে।’

উৎসঃ   রাইজিংবিডি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ