প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বের প্রায় প্রতিটি শহরের বাসিন্দাই ট্র্যাফিক জ্যামে জেরবার। তখন ট্র্যাফিকে দাঁড়িয়ে প্রতিটি গাড়ির সওয়ারিই হয়তো ভেবেছেন, উফঃ যদি একটা গাড়ি থাকত যেটা উড়ে যেতে পারত! আর ঠিক এমনই ভাবনা বা স্বপ্নকে এখন বাস্তবে রূপান্তরিত করতে চলেছেন মিঃ স্টিফেন ক্লেইন নামের এক ব্যক্তি, পেশায় যিনি ইঞ্জিনিয়ার। গত কুড়ি বছর ধরে তিনি এই নতুন ধরণের গাড়িটির গবেষণার কাজে যুক্ত ছিলেন। আজ তাঁর গবেষণা সফল হয়েছে এবং আগামী ২৯অক্টোবর এরো মোবিল ৩.০ বিশ্ব বাজারে পা রাখছে অস্ট্রিয়ার পাওনিয়ার ফেস্টিভ্যালের মাধ্যমে। মিঃ ক্লেইন চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবং এরো মোবিলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রথমে এরোমোবিল ২.৫ নামের একটি গাড়ির মডেল তৈরি করেন এবং সেই মডেলকে সাফল্যের সঙ্গে টেক-অফ করায়, তারপর সেটি ওড়ে এবং সবশেষে মাটিতে ল্যান্ড করে।
স্টিফেনের সংস্থা এরোমোবিল ১৯৯০ সাল থেকে উড়ন্ত গাড়ি আবিষ্কারের গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। প্রথমে তাঁরা যে মডেল আবিষ্কার করে, তা একেবারেই প্রতিদিন ব্যবহারের যোগ্য ছিল না, বুঝতে পারে সংস্থার কর্তারা। তারপরই তারা নয়া মডেল তৈরির কাজে হাত লাগায়।
এরোমোবিল ৩.০-তে ৯১২ রোটেক্স ইঞ্জিন রয়েছে, যার সাহায্যে উড়ন্ত গাড়িটি আকাশপথে ৭০০কিমি ও রাজপথে ৮৭৫কিমি পর্যন্ত যেতে পারে। এরমধ্যে সবচেয়ে তাত্পর্যপূর্ণ বিষয়, গাড়িটির আকাশ পথে উড়তে
প্রতি ঘন্টায় ১৫ লিটার মতো তেল খরচ হবে। সেখানে রাস্তায় চলতে প্রতি ঘন্টায় ১২.৫ লিটার মতো তেল লাগবে। এই গাড়িটির স্পিড আকাশপথে ঘন্টায় ২০০কিমি সেখানে রাস্তায় চলতে পারবে সর্বোচ্চ ঘন্টায় ১৬০ কিমি স্পিডে। গাড়িটি টেক-অফ করার সময় ঘন্টায় ১৩০ কিমি বেগে উঠবে।
তবে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, তাঁরা এখনও মনে করে না গাড়িটির মডেলটা আদও সঠিক। আরও অনেক উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে, দাবি করা হয়েছে স্বয়ং প্রস্তুতকারক সংস্থার পক্ষ থেকে। তাঁরা এমনভাবেই গাড়িটি তৈরি করতে চান, যাতে গাড়িটি একইসঙ্গে রাস্তায় চলতে ও আকাশে উড়তে পারে।