মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: গত ৫ মাস যাবত বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় দিনাজপুর শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন এন্ড রিচার্স সেন্টার হাসপাতালের চিকিৎসকসহ ২৫৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বেতন-ভাতা না পাওয়ায় কেউ নতুন চাকরীর সন্ধান করছেন আবার কেউ কেউ বকেয়া বেতনের আশায় কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকা আয় হয়। কিন্তু হাসপাতালের আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশী হওয়ায় মাস শেষে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেয়ার মত টাকা অবশিষ্ট থাকে না। ফলে বকেয়া অংক বৃদ্ধি পেয়ে গত ৫ মাস ধরে চিকিৎসকসহ ২৫৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে। আর বেতন বন্ধ থাকায় নি¤œ শ্রেণির কর্মচারীরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তারা অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তারা তাদের সন্তানদের স্কুলের বেতনসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করতে পারছেন না। দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে তারা প্রতিদিন অফিস করছেন।
১৯৯২ সালে দিনাজপুর শহরের উপশহর এলাকায় জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন এন্ড রিচার্স সেন্টার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সজ্জিত এই হাসপাতালটি দিনাজপুর তথা উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এখানে রয়েছে ৫ জন কনসাল্টেন্টসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ২৫০ কর্তকর্তা-কর্মচারী। এটি রাজধারী ঢাকার পরে দেশের বৃহত্তর হার্ট চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে ক্ষেত। তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিকে তাকিয়ে এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবারমান অব্যাহত রাখতে দ্রুত আর্থিক সমস্যা সমাধান জরুরী বলে মনে করেন দিনাজপুরবাসী।