• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত

চার অঞ্চলে ভাগ হচ্ছে রেলওয়ে

Bangladesh Railwayসিসি নিউজ: সেবার মান বাড়াতে রেলওয়েকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হচ্ছে। অঞ্চলগুলো হলো উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর এবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও সেবা বাড়াতে রেলওয়েকে চার অঞ্চলে ভাগ করার সুপারিশ করেছে। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় ভাগ করার কাজও শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ও কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সড়কপথের তুলনায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে রেলওয়ে অধিক সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। এছাড়া রেলের গতি দ্রুততম হলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রসার ঘটবে। প্রতিটি স্থল ও সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। এসব বিষয়কে মাথায় রেখেই সরকার রেলকে ঢেলে সাজানোর এ পরিকল্পনা নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এর আগে পৃথক রেলওয়ে মন্ত্রণালয় গঠিত হওয়ার পর থেকেই রেলওয়েতে অবাস্তবায়িত থাকা প্রকল্পগুলোকে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকায় ৮৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়ে রেলওয়ে মন্ত্রণালয় থেকে একটি মহাপরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। দেশে সব জেলা-উপজেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পরবর্তী সময় এ মহাপরিকল্পনার কলেবর বাড়িয়ে ২৩১টি প্রকল্প এবং খরচ ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। বিভিন্ন দাতা সংস্থা, ভারতীয় ঋণ চুক্তি এবং সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে রেলের মহাপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। এ মহাপরিকল্পনাটিকে চারটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুসারে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বর্তমান সরকারের নেয়া ৩২টি চলমান প্রকল্প শেষ করা হবে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে টঙ্গীর কাছে ধীরাশ্রমে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, ঢাকা-টঙ্গী রুটে তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইন নির্মাণ, দ্বিতীয় ভৈরব ও দ্বিতীয় তিতাস সেতু নির্মাণ, খুলনা থেকে মংলা, ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে ঢালাচর পর্যন্ত এবং দোহাজারী থেকে রামু-কক্সবাজার হয়ে ঘুনধুুম পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ। তাছাড়া এ সময়ের মধ্যে ২০ সেট ডিজেল ও ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ ইউনিট, ৭০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন রেলপথ নির্মাণ এবং লোকোমোটিভ কেনার জন্য খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে রোববার সংসদ সচিবালয়ে সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির বৈঠকে রেলওয়েকে চার ভাগে ভাগ করার সুপারিশ করা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, বর্তমানে রেলে উত্তর ও পূর্ব নামে দুটি অঞ্চল রয়েছে। এটাকে বিস্তৃত করে দক্ষিণ ও পশ্চিম অঞ্চল করা হচ্ছে। কাজী কেরামত আলীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রহমত আলী, শহীদুজ্জামান সরকার, একেএম শাহজাহান কামাল, আবদুল মজিদ খান প্রমুখ।

বৈঠকে উপস্থিত কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, রেলের সেবার মান বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে সারা দেশে অবহেলিত রেলস্টেশনগুলো দ্রুত সংস্কার করে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া অবৈধভাবে দখলে থাকা রেলের জমি উদ্ধার করতে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। এছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি নিয়ে অসন্তোষ জানান কমিটির সদস্যরা। এ সময় তারা বলেন, ওইসব প্রকল্পের অযাচিত ব্যয় বেড়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলওয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে চার অঞ্চলে ভাগ করে আধুনিকায়ন করার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের ভৌগোলিক অবস্থা এবং জনগণের প্রয়োজন বিবেচনা করে রেল সেক্টর উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়েকে (বিআর) চারটি জোনে ভাগ করতে মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি রেল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। রেল যোগাযোগ ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের চলাচল এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে প্রতিটি স্থল ও সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। এখন থেকে সব রেললাইন নির্মিত হবে ডুয়েল গেজে। রেল মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, নৌপরিবহনের মতো রেলওয়েকে গুরুত্ব দিয়ে রেল মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছে। স্বল্প খরচে রেলে পণ্য পরিবহন করা সম্ভব। এজন্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেলওয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নানা সমস্যায় রেলওয়ে : রেলওয়ের দুটি অঞ্চলের পরিধি বাড়িয়ে চারটি জোনে ভাগ করার উদ্যোগ নেয়ায় ঝিমিয়ে পড়া কার্যক্রমে ফের গতি পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের সব ক্ষেত্রেই আছে অন্তহীন সমস্যা। ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার রেললাইনে নেই পর্যাপ্ত পাথর। এতে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনাকবলিত হচ্ছে ট্রেন। নড়বড়ে লাইনের কারণে গতি বাড়ানো যায় না ইঞ্জিনের। এর ফলে শিডিউল রক্ষা করে গন্তব্যস্থলে পেঁৗছতে পারে না ট্রেন। পূর্বাঞ্চলের আট শতাধিক রেল ক্রসিংয়ে নেই গেটম্যান। ফলে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় মারা পড়ছে লোকজন। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাত্রী চাহিদা সামাল দেয়ার মতো নেই পর্যাপ্ত ট্রেন। রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, ইঞ্জিন ও বগি সঙ্কটে বাড়ানো যাচ্ছে না ট্রেন সংখ্যা। এজন্য প্রতিদিন পাঁচ হাজার যাত্রীকে টিকিট দেয়া যায়। অন্তত প্রতিদিন ১৫ হাজার যাত্রী টিকিট না পেয়ে সড়কপথে যেতে বাধ্য হন। পূর্বাঞ্চলে চলছে তীব্র লোকবল সঙ্কট।

ট্রেন পরিচালনার কাজে যুক্ত পরিচালক (গার্ড) সঙ্কটে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট ও চট্টগ্রাম-দোহাজারি লাইনে লোকাল ট্রেন বন্ধের উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে লুপ লাইন। এতে একটি ট্রেনকে স্টেশন অতিক্রম করার সুযোগ দিতে অন্য ট্রেনকে দাঁড় করিয়ে রাখা যায় না। নড়বড়ে রেললাইনে প্রায় সময় দুর্ঘটনার মুখে পড়ে ট্রেন। সম্প্রতি মিরসরাই স্টেশনের কাছে লুপ লাইনে বেশি গতিতে আন্তঃনগর ট্রেন প্রবেশ করার সময় দুর্ঘটনায় পাঁচ বগি লাইনচ্যুত হয়। রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ লুপ লাইনে বেশি গতিতে ট্রেন চলাচলের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পূর্বাঞ্চলে চলছে স্টেশন মাস্টারের তীব্র সঙ্কট। শুধু মাস্টার সঙ্কটে বন্ধের মুখে পড়েছে অর্ধশতাধিক স্টেশন। বিভিন্ন স্টেশনে স্টেশন মাস্টারের দায়িত্ব পালন করছেন নিচের স্তরের কর্মচারীরা। যাত্রী পরিবহনের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বছরখানেক আগে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রেলপথে চালু করা হয় ডেমু ট্রেন। কিন্তু সেই ডেমু ট্রেনগুলোতে মেলে না যাত্রী। এতে এসব ট্রেন পরিচালনা খাতে প্রতিদিন বিপুল গচ্চার মুখে পড়ছে রেলওয়ে। রেলওয়ের কর্মকর্তারাই বলছেন, ডেমু ট্রেন এখন গলার কাঁটা। যাত্রীবিহীন রুটে ডেমু পরিচালনার কারণেই এ অবস্থা বলে জানান কর্মকর্তারা। পূর্বাঞ্চলের অন্তত ১ হাজার ৮০০ রেল সেতুর চলাচল মেয়াদ পেরিয়ে গেছে অন্তত ১০ বছর আগে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে নির্মিত এসব সেতুর একেকটির বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছর। অথচ এসব সেতুর লাইফ টাইম ২০ বছর। মেয়াদোত্তীর্ণ সেতু দিয়ে দিব্যি চলে আসছে সব ধরনের ট্রেন। দুই বছর বর্ষা মৌসুমে প্রবল স্রোতে সীতাকু- এলাকায় ধসে পড়ে দুটি সেতু।

উৎসঃ   আলোকিত বাংলাদেশ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ