সিসি নিউজ: দেশের আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আগামী রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে ২০১৪ সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা। একই দিনে শুরু হচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষাও। সারাদেশের ২০ লাখ পরীক্ষার্থী এতে অংশ নেবে।
একইসঙ্গে কোচিং সেন্টারের সাথে যুক্ত শিক্ষকদের গতিবিধি নজরদারিরও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, সারাদেশে প্রায় ২ হাজার শিক্ষক কোচিং সেন্টারের সাথে যুক্ত রয়েছেন।
গতবারের মতো সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা না নিয়ে এবার প্রতিটি বোর্ডে আলাদা আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা হবে। প্রতিটি বোর্ডের অধীনে আবার পৃথক চার সেট প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে।
পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধের সাজা নিশ্চিত করা হবে।
পাশাপাশি পরীক্ষার আগের রাতে সংক্ষিপ্ত সাজেশন বিক্রির নামে প্রশ্ন ফাঁস কিংবা এ সংক্রান্ত কোনো গুজব যাতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে না পারে সে ব্যাপারেও কড়া ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
প্রয়োজনে ফেসবুকের কিছু কিছু সাইট বন্ধ করা হতে পারে। তা ছাড়া শিক্ষা সচিবের নির্দেশনা সংবলিত দুটি পৃথক চিঠি জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে প্রশ্ন ফাঁস রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোসহ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় আজ বুধবার বিকেল ৩টায় জরুরি বৈঠক ডেকেছে। পরীক্ষার আগে এ ধরনের বৈঠক এই প্রথম।
বৈঠকে অংশ নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শককে চিঠি পাঠানো হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, ডিজিএফআই ও ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) একজন প্রতিনিধি পাঠাতে।
তা ছাড়া বিটিআরসির চেয়ারম্যান, গোয়েন্দা সংস্থা এসবি, সিআইডি ও ডিবির প্রতিনিধিদের বৈঠকে থাকতে বলা হয়েছে। এর আগে দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলন করবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এবারের পরীক্ষায় কোনোভাবেই যাতে প্রশ্ন ফাঁস কিংবা অন্য কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সে জন্যই এমন বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
ওই সূত্র মতে, পরীক্ষা শুরুর আগ থেকে শেষ পর্যন্ত কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকলে অন্তত পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন ফাঁসের ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে বলে মনে করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে মেডিকেলের ভর্তির পরীক্ষার জন্য কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর ফলে সুফল মিলেছে। ওই পথ অনুসরণ করেই এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এবার জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় বোর্ডওয়ারি ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন ব্যবহার করা হবে। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জেএসসি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জেডিসি পরীক্ষা হবে।
২০১০ সালে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। কিন্তু চার বছর পর এবার সেই উদ্যোগে পরিবর্তন আনা হলো।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসলিমা বেগম বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এড়াতেই এবার ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে জেএসসি পরীক্ষা নেয়া হবে।’