জাহাঙ্গীর আলম, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম): প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা জেএসসি দিচ্ছে তানিয়া(১৪)। সে উপজেলার পূর্বচন্দ্রখানা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। প্রথম দিকে ওই হাত দিয়ে লেখা লেখায় কিছুটা অসুবিধা হলেও পরবর্তীতে দুই হাতের অবশিষ্টাংশ দিয়ে কলম জড়িয়ে লেখা আরম্ভ করে জন্ম প্রতিবন্ধী তানিয়া দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত নেই। এছাড়াও রয়েছে নানা শারীরিক অসুস্থতা। তাই বলে থেমে যায়নি তার স্বাভাবিক জীবন সে। পরে আস্তে আস্তে লেখায় গতি আসে। শারীরিক নানা সীমবদ্ধতাকে কাটিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের মতো নিজের জীবনকে সে পরিচালিত করছে।
সবার জন্য প্রতিবন্ধী তানিয়া হতে পারে অনুপ্রেরনার উৎস।হাতের কব্জি পর্যন্ত না থাকলেও একজন স্বাভাবিক শিক্ষার্থী যে সকল কাজ করে সেও সে সকল কাজ অবলীলায় সম্পাদন করে। বই পড়া, ঘর গোছানো,দাঁত ব্রাশ,খাবার খাওয়া, মায়ের কাজে সাহায্য করা ইত্যকার নানা কাজকর্ম হাতের বাকী অংশ দিয়ে করে। হাতের কর্মা থাকা তার জীবনে চলার পথে কোনো বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। হয়তো কষ্ট হয়েছে, কিন্তু সে সকল বাঁধা ঠেলে জীবনের স্বাভাবিক গতি বজায় রেখে চলছে।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাগদহ গ্রামের ইন্স্রুরেন্স কর্মী তোফাজ্জল হোসেন এবং গৃহিনী মর্জিনা বেগমের প্রথম সন্তান তানিয়া। জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী। মেধাবী এই কিশোরী প্রাইমারী স্কুল সাার্টিফিকেট পরীক্ষা পিএসসিতে এ গ্রেড পেয়েছে। জেএসসি পরীক্ষায় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ তার জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ করলেও সে অন্য স্বাভাবিক পরীক্ষার্থীর মতো নিদিষ্ট সময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সক্ষম হচ্ছে। ওই স্কুলের গণিত শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় রায় জানান, তানিয়াতে কোনো অংক দুইবার দেখানোর প্রয়োজন হয়না। সে একাই চেষ্টা করে। না পারলে শিক্ষকের দ্বারস্থ হয়। বিজ্ঞানেও সে অসম্ভব ভালো বলে জানালেন বিজ্ঞান শিক্ষক হরিশন্কর রায়। তানিয়ার বাবা জানান, মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়ায় বাড়ি থেকে স্কুলে যেতে সমস্যা হয়। তার জন্য স্পেশাল কেয়ার নিতে হয়। মেয়েকে নিয়ে প্রথমে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম বলে জানালেন তানিয়ার মা। এখন সে স্বাভাবিক জীবন যাপন করায় অনেকটা স্বাস্ততে আছি।