• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন |

ভারতে সারদা কেলেঙ্কারীতে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের আত্মহত্যার চেষ্টা

Kunal-Ghosh-600X400-www.nwztoday.com_আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের সারদা কেলেঙ্কারীর অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ও সংসদ সদস্য কুনাল ঘোষ জেলের মধ্যেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। মি. ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস দল থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন, তবে গত বছর গ্রেপ্তার হওয়ার পরে দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। দল থেকে বহিস্কার হলেও তিনি এখনও সংসদ সদস্য রয়ে গেছেন। কুনাল ঘোষ একসময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠতম ব্যক্তিদের একজন ছিলেন।

কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে আজ গভীর রাতে একসঙ্গে অনেকগুলি ঘুমের ওষুধ খেয়ে নেন তিনি। কিছুক্ষনের মধ্যেই জেল কর্তৃপক্ষ এস এস কে এম হাসপাতালে ভর্তি করে। প্রথম দিকে তাঁর হৃৎস্পন্দন খুবই অনিয়মিত ছিল।

পশ্চিমবঙ্গের কারা বিভাগের অতিরিক্ত ডাইরেক্টর জেনারেল অধীর শর্মা জানিয়েছেন, “জেলের নিরাপত্তা কর্মীদের কাছে মি. ঘোষ নিজেই জানান যে তিনি অসুস্থ বোধ করছেন। জেলের চিকিৎসকরা পরীক্ষা করার পরেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পেট ওয়াশ করার পরে তাঁর জ্ঞান ফিরেছে আর তিনি চিকিৎসায় সাড়াও দিচ্ছেন।“

তিন দিন আগে আদালতে শুনানী চলার সময়েই মি. ঘোষ হুমকি দেন যে সারদা কেলেঙ্কারীতে ‘আরও গুরুত্বপূর্ণ যেসব ব্যক্তি জড়িত, তাঁদের ৭২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না করলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। সারদা কেলেঙ্কারীতে সি বি আই য়ের তদন্ত পক্ষপাতহীন হচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বিচারক জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এই হাই প্রোফাইল বন্দীর ওপরে নজরদারী বাড়ানোর জন্য। সেই ৭২ ঘন্টার সময় শেষ হওয়ার পরেই আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন কুনাল ঘোষ।

জেলের কয়েকটি সূত্র বলছে, মি. ঘোষের সেল থেকে ৫৮ টা ঘুমের ওষুধ পাওয়া গেছে, তবে তার মধ্যে তিনি কতগুলি আসলে খেয়েছেন, সেটা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু এরকম একজন বন্দীর কাছে অতগুলো ঘুমের ওষুধ পৌঁছল কী করে, সেটা বড় প্রশ্ন।

আত্মহত্যা হুমকি দিচ্ছেন যে হাই প্রোফাইল বন্দী, তাঁর ওপরে কীরকম নজরদারী রাখা হচ্ছিল জেলের ভেতরে, প্রশ্ন উঠছে সেটা নিয়েও।

কুনাল ঘোষ সারদা গোষ্ঠীর সংবাদমাধ্যম বিভাগের প্রধান ছিলেন। সারদা-তদন্তে প্রথম থেকেই তাঁর নাম উঠে এসেছিল, তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে সমালোচনা করতে শুরু করার পরেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

কয়েকমাস আগে সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশে সারদা তদন্ত সি বি আইয়ের হাতে যাওয়ার পরে মি. ঘোষকেও তারা নিজেদের হেফাজতে নেয়। বিবিসি বাংলা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ