সিসি ডেস্ক: সাভারে তৈরি হচ্ছে নকল নারিকেল তেল যা বিক্রি হচ্ছে উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে পাওয়া যায় এমন এক নকল তেল কারখানার সন্ধান।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পৌরসভার আরাপাড়া এলাকার মো. নজরুল ইসলামের বাড়িতে তৈরি করা নিউ এনার্জি নাম লোগো ব্যবহার করা হাজার হাজার বোতল তেল। সেখানে দেখা গেছে তেলে বিভিন্ন প্রকার কেমিক্যাল মেশানোর একটি মাত্র অপরিচ্ছন্ন মেশিন। সেখানে দেখা যায়নি তেমন কোনো দক্ষ কর্মচারীকে।
আল আরাফাত এন্টারপ্রাইজ নামক এমন এক কারখানার মালিকের নাম মো. আবুল কালাম। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইরের বাসিন্দা ও এসআর কুরিয়ার সার্ভিসের সাভার শাখার এজেন্ট। কুরিয়ার সার্ভিসের আড়ালে নকল তেলের রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছেন এমন একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই অনুসন্ধান চালানো হয় কারখানাটিতে।
কথা বলা হয় তেল কারখানার মালিক আবুল কালামের সঙ্গে। তেল তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি গত ৬ বছর ধরে তেলের ব্যবসা করি। সাভারে কারখানা করেছি এক বছর, আমার ভায়রার বাসায়। এর আগে কারখানা ছিল নবীনগরের বেশ কয়েকটি জায়গায়। তার কথায় প্রমাণ মিলে কারখানাটি দীর্ঘদিন এক জায়গায় রাখেন না তিনি। অনেকটা ভ্রাম্যমাণ প্রতিষ্ঠানের মতোই। তেল তৈরির কর্মচারীর কথা জানতে চাইলে তিনি অকপটে বলে উঠেন, আমরা নিজেরাই তৈরি করি। এখানেও সন্ধান মেলে নিজেদের গোপনীয়তায় কারখানাটি পরিচালনা করছেন তিনি।
দ্রব্যমূল্য ঊর্ধগতির বাজারে ৫০০মিলি. নারিকেল তেল বিক্রি করছেন মাত্র ৭৫ টাকা। কিভাবে সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি ড্রামে ড্রামে নারিকেল তেল কিনে এনে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার কেমিক্যাল মিশিয়ে তা বাজারে কম মূল্যে বিক্রি করি।
তেলগুলো বিক্রি করেন কোথায় প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “তেলগুলো উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিক্রি করি। সাভারের স্থানীয় বাজারগুলোতেতো আপনার তৈরি করা তেল দেখা যায় না।
জবাবে তিনি বলেন, সাভারে উৎকৃষ্ট মানের পণ্যের চাহিদা বেশি হওয়ায় আমার এই পণ্য এখানে বিক্রি করি না। তার এমন জবাবে এটাও স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সহজ সরল ভোক্তাদের মাঝে খুব সহজেই বিক্রি করছেন এই নকল নারিকেল তেল।
কিভাবে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছে তেল জবাবে তিনি বলেন, “কেন আমার এসআর কুরিয়ার সার্ভিসে।” এখানেও স্পষ্ট নিজেই এসআর কুরিয়ার সাভার শাখার এজেন্ট হওয়ায় তেমন কোনো বেগ পেতে হয়না নকল তেল বাজারজাত করতে।
এদিকে কোম্পানির লাইসেন্স, বিএসটিআই-এর অনুমোদন, ভ্যাট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লাইসেন্সও বিএসটিআই অনুমোদন সবই আছে।” কিন্তু অনুসন্ধানে কিছুই দেখাতে পারেননি তিনি।
তবে লাইসেন্স ও বিএসটিআই অনুমোদনের কথা প্রাথমিক স্বীকার করলেও কোম্পানির পণ্য উৎপাদন আইন লঙ্ঘন করেই তেল তৈরি করা হচ্ছে বলে রয়েছে একাধিক অভিযোগ।
লিটন হোসেন নামের যুবককে দেখা যায় কারখানায় অবস্থান করতে। কারখানা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমি কিছুই জানিনা ভাই আমি একটা ওষুধ ফ্যাক্টরিতে কাজ করি আর এখানে সময় দেই।”
নতুন বার্তা