সিসি নিউজ: নিয়মিত মামলা না হয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে বিচার হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালের ঔষধ পাচারের মুল হোতারা। এরা পর্দার আড়ালের থেকে নিয়মিত মামলা না হওয়ার জন্য তদবির চালিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। নীলফামারী কিশোরগঞ্জ হাসপাতাল থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ঔষধ পাচারকালে আয়া হাসিনা বেগমকে (৩৫) এলাকাবাসী হাতে নাতে আটক করে পুলিশে দেয়। মঙ্গলবার বিকেলে ভ্রাম্যমান আদালত ওই হাসপাতালের আয়া হাসিনা বেগমকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। জানা যায়, আয়া হাসিনা বেগম রাতের ডিউটি শেষে বাড়ী যাওয়ার সময় দুটি কাপড়ের ব্যাগে করে ২কার্টুন ৫’শ মিগ্রা সেফ্রাডিন ইনজেকশন, ২৫ প্যাকেট ওসারটিল ট্যাবলেট, ২ কার্টুন ৫’শ এমজি জেসোক্যাল ট্যাবলেট ও দুইশ পিস সিরিঞ্জসহ আরো অন্যান্য ঔষধপত্র হাসপাতাল থেকে বাহিরে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশে দেয়। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে ঔষধসহ থানায় নিয়ে যায়। পরে ভ্রম্যমান আদালতে বিচার হয়। হীরা মামুদের স্ত্রী হাসিনা বেগমের বাড়ী হাসপাতাল থেকে ৫শ’ গজ দক্ষিনে যদুমনি গ্রামে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন যাবত হাসপাতালের স্টাফরা ঔষধ পাচার করে গোপনে বিক্রি করেছে। তাই আউটডোরের রোগীদের দেয় প্যারাসিটামল ও এন্টাসিড জাতীয় ঔষধ। ভর্তিকৃত রোগীদের হাতে দেয়া হয় ঔষধের স্লিপ বাইরে ক্রয়ের জন্য। নিয়মিত মামলা হয়ে তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসত।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ দিদার রসূল জানান, এ ঘটনায় আবাসিক মেডিকেল অফিসার শামীমুজ্জামান শামীমকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সিদ্দিকুর রহমান জানান, এঘটনার সাথে জড়িতদের খুজে বের করার জন্য দু’জনের বাড়ী তল্লাশী করা হয়েছে। হাতে-নাতে ঔষধসহ হাসিনা গ্রেফতার হওয়ায় ড্রাগ নিয়ন্ত্রন অধ্যাদেশে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তার বিচার করা হয়েছে।