সিসি নিউজ: ইতিহাস গড়লেন দেরাদুনের তাশি এবং নুংশি মালিক। পৃথিবীর সাতটি মহাদেশের সাত-সাতটি উচ্চতম শৃঙ্গ জয় করলেন এই দুই ভারতীয় বোন। যমজ বোন হিসাবে এই কৃত্বিত্ব বিশ্বে প্রথম।
রেকর্ড গড়ার পথে তারা একে একে পা রেখেছেন মাউণ্ট কিলিমাঞ্জারো (আফ্রিকা), মাউণ্ট এভারেস্ট (এশিয়া), মাউণ্ট এলব্রূস (ইউরোপ), মাউণ্ট অ্যাকনকাগুয়া (দক্ষিণ আমেরিকা), মাউণ্ট কার্টসটেঞ্জ পিরামিড (ওশিয়ানিয়া), মাউণ্ট ম্যাককিনলে (উত্তর আমেরিকা) এবং মাউণ্ট ভিনসন ম্যাসিফ (অ্যাণ্টার্কটিকা) শীর্ষে।
দেরাদুনের জোহরি গ্রামের বাসিন্দা তাশি ও নুংশি। বয়স মাত্র ২৩ বছর। বাবা ভি এস মালিক সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল। মুসৌরির গুরু নানক ফিফথ সেনটেনারি স্কুল থেকে পড়াশোনার পাঠ শেষ করার পর বাবার পরামর্শেই মালিক বোনেরা ২০১১ সালে উত্তর কাশীর নেহরু ইনস্টিটিউট অফ মাউণ্টেনিয়ারিং (এনআইএম) এ ভর্তি হন। পাহাড় চড়ার নেশা তখনই পেয়ে বসে দুই বোনকে। পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশিখরে পা রাখার স্বপ্নে মশগুল তাশি আর নুংশি এনআইএম থেকেই পর্বতারোহণ সংক্রান্ত বিভিন্ন্ ধরনের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। যা শেষ হওয়ার পরই তারা বেরিয়ে পড়েন বিশ্বের সাতটি মহাদেশের উচ্চতম শৃঙ্গ জয়ের লক্ষ্যপূরণে। ২০১২ সাল থেকে শুরু হয় তাদের পর্বতাভিযান-পর্ব। ২০১৩ সালের ১৯ মে এভারেস্ট-শীর্ষে পা রাখেন তারা। যমজ বোন হিসাবে এভারেস্ট জয় সেই প্রথম। একে একে আফ্রিকা, ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা, ওশিয়ানিয়া, উত্তর আমেরিকার শীর্ষতম শৃঙ্গগুলো জয় করে নেন তারা।
সপ্তশৃঙ্গজয়ের বিশ্বরেকর্ড সম্পূর্ণ হয় গত ১৬ ডিসেম্বর। ভি এস মালিকের কথায়, ‘১৬ ডিসেম্বর (ভারতীয় সময় অনুযায়ী ১৭ ডিসেম্বর ভোরে) অ্যাণ্টার্কটিকার ভিনসন ম্যাসিফ-র শিখরে পা রাখে তাশি আর নুংশি।’
রেকর্ড গড়ার পর মালিক বোনেদের পরবর্তী লক্ষ্য উত্তর এবং দক্ষিণ মেরুতে স্কি করা। এর পাশাপাশি খেলাধুলোতেও প্রশিক্ষণ নেয়ার কথা আছে তাদের। ইতিমধ্যেই প্রথম ভারত-নিউজিল্যান্ড স্পোর্টস স্কলারশিপ পুরস্কার পেয়েছেন তাশি আর নুংশি।
বিশ্বের সাতটি মহাদেশের সাত উচচতম শৃঙ্গজয়ের মাধ্যমে পর্বতারোহীদের হল অফ ফেম ‘দ্য সেভেন সামিটস ক্লাব’-এও অনায়াসে ঢুকে পড়েছেন পর্বতারোহণের ইতিহাসে নজির সৃষ্টিকারী এই দুই যমজ ভারতীয় বোন।