সজলের বাবা ভাবলেন, ছেলে যে দুষ্টু! নিশ্চিত বড় ধরনের কোনো অন্যায় করেছে। তিনি সজলের কথার জবাব দিলেন না। সজল বাবার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘বাবা, তুমি কী কিছু ভাবছ?’
বাবা মাথা নেড়ে বললেন, ‘ভাবার শেষ আছে? নেই। এই যে বিবিসির সংবাদ শুনলাম। শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম।’
‘কী শুনলে বাবা?’
‘শুনলাম নারায়ণগঞ্জে সাতজন খুন হয়েছে।’
‘কী! সাত খুন। বল কী বাবা। কারা, কী কারণে খুন করল?’
‘বিস্তারিত জানা যায়নি। খুন হয়েছে এটাই জানলাম।’
‘বাবা, মানুষ মানুষকে কেন খুন করে?’
বাবা ভাবলেন- এসব কথা ছেলের সামনে বেশি না বলাই ভালো। তিনি প্রসঙ্গ পাল্টে বললেন, ‘ তুমি যেন কী বলতে চেয়েছিলে?
‘ বলব? আমার ভয় করছে!’
‘কীসের ভয়?’
‘স্যারের ভয়।’
‘ স্যারের ভয় কেন? স্যারেরা কি তোমাকে কিছু বলেছেন?’
‘না।’
‘তাহলে?’
‘বাবা, তুমি কি জানো, আমাদের স্কুলের সমস্যার কথা?’
‘তোমাদের স্কুলে আবার কি সমস্যা হলো?’
‘বাবা, তুমি তো আবার স্যারদের বলে দেবে না?’
‘আচ্ছা বলব না। তুমি বলো।’
সজল এবার বলতে শুরু করে। আসলে ওদের স্কুলে বেশ কিছুদিন হলো ঠিকমতো ক্লাস হচ্ছে না। ফলে পড়ালেখার ক্ষতি হচ্ছে। এ কথা শুনে বাবা বিস্মিত কণ্ঠে বললেন, ‘এত দিন বলোনি কেন?’
‘বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু …। যাই হোক, আমাদের আনোয়ার স্যার রাজনীতি করেন। ফলে ব্যস্ত থাকেন অন্য কাজে। স্কুলে ঠিকমতো আসেন না। ক্লাসও নেন না।’
‘তাই!’
‘হেড স্যার ব্যবসা করেন। কতো কাজে তাকে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে তিনিও আসেন না। শুধু সংগীতা ম্যাডাম ঠিকমতো ক্লাস নেন। ম্যাডামের জন্য স্কুলটা টিকে আছে।’
কথাগুলো শুনে বাবা খুব চিন্তিত হলেন। বললেন, ‘তুমি আমাকে বলে খুব ভালো করেছ। এখন তুমি পড়ো। আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো।’
‘বাবা, তোমাকে আসল কথা বলা হয়নি।’
‘আসল কথা আবার কি?’
‘আমাদের স্কুলে বেল নেই। আমি স্কুলের জন্য একটা ঘণ্টা কিনবো। ঘণ্টার শব্দ শুনে আমরা স্কুলে যাব। কত মজা হবে! তুমি কিনে দেবে?’
‘অবশ্যই দেব, এখন পড়।’
সজল ইচ্ছাপূরণের আনন্দ নিয়ে পড়তে শুরু করল।