জামালপুর : জামালপুরে দুই যুবককে অপহরণের পর এক কিশোরীর সঙ্গে জোরপূর্বক বিবস্ত্র ছবি ওঠানো এবং সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় তিন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
জামালপুর সদর থানার ওসি মুজিবুর রহমান মজুমদার জানান, মেলান্দহের কড়ইচূড়া গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে এটিএম মোকাব্বের রহমান রক্তিম ও তার বন্ধু মেলান্দহের জগতপাট্রা গ্রামের শাহাজ উদ্দীনের ছেলে তাজুল ইসলাম রোববার রাত সাড়ে আটটায় জামালপুর শহরের পাঁচরাস্তার মোড় থেকে অটোরিকশায় হাজরাবাড়ি যাচ্ছিল। এ সময় বগাবাঈদ বোডঘর এলাকায় ৪ জন অপহরণকারী ওই দুই যুবককে অটো রিকশা থেকে নামায়।
অপহরণকারীরা তাদের জামালপুর শহরের বোর্ডঘর এলাকায় সিউর সাকসেস কোচিং সেন্টারের ভেতরে আটকে রাখে। এসময় অপহরণকারীরা তাদের কাছ থেকে নগদ ৩ হাজার এক শত টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং দুইজনকে বিবস্ত্র করে অপরিচিত এক কিশোরীর সঙ্গে বিবস্ত্র ছবি তুলে।
এরপর অপহরণকারীরা তাদের কাছ থেকে ১শ’ টাকা মূল্যর ৩ টি সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়। পরে সোমবার তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এঘটনায় মোকাব্বের রহমান রক্তিম সোমবার সদর থানায় মামলা করলে পুলিশ জামালপুর পৌরসভার দেউরপাড় চন্দ্রার একেএম আব্দুল জলিল মাস্টারের ছেলে সরদার মো. ইব্রাহিম (২৮), বগাবাঈদ বোর্ড এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে মো. রোমান (২৭) ও একই এলাকার রেজাউল করিম বাদশার ছেলে আফজাল হোসেন রনি (২৯)কে গ্রেফতার করে।
অপহরণাকারী চক্রের প্রধান জামালপুর শহরের বোষপাড়া এলাকার আব্দুল হান্নানের ছেলে আজম (৩৮) কে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।
পুলিশ এসময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, টাকা, স্ট্যাম্প ও বিবস্ত্র ছবি উদ্ধার করে।
জামালপুর সদর থানার ওসি মুজিবুর রহমান মজুমদার আরো জানান, গ্রেফতারকৃতদের মঙ্গলবারই আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।