• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন |

উত্তর জনপদে শীতের তীব্রতা বাড়ছে

Chirirbandar photo----জামাল উদ্দিন, চিরিরবন্দর: উত্তর জনপদের দিনাজপুরসহ ১৬টি জেলা শহর তথা গ্রামাঞ্চলে শীতের তীব্রতা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন দূর্বিসহ উঠেছে। কর্মজীবী খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষেরা ফুটপাতের পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভীড় করতে দেখা যাচ্ছে।
পৌষের শুরুতে শৈত্যপ্রবাহের সাথে ঠান্ড হিমেল বাতাস জনজীবন দূর্বিষহ করে তুলেছে উত্তর জনপদের ১৬টি জেলার মানুষ, পশু, ফসলসহ সকল ক্ষেত্রে। শীতের তীব্রতায় গরম কাপড়ের বিষেশ করে পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে ভীড় সবচেয়ে বেশি। উত্তর জনপদের কর্মজীবী খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষের জীবন যাত্রা দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে।
উত্তর জনপদের বিখ্যাত পাইকারি পুরাতন কাপড়ের মার্কেট বগুড়া, সৈয়দপুর ও দিনাজপুর। পাইকারি মার্কেটগুলোতেও প্রতি বেল এ (গাইট) ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেশি বলে মহাজনরা জানায়। ফলে ফুটপাতের খুচরা বিক্রেতারা  এ বছর পুরাতন কাপড়ের চাহিদা ও ক্রয়মূল্য বেশির কারণে দামও হাকছেন বেশি। শীতের তীব্রতার সাথে দামের ঊর্দ্ধগতিতে নিন্মবিত্ত ও ছিন্নমুল মানুষেরা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। শীত নিবারনের জন্য খড়কুটে জ্বালিয়ে অনেকে শীত নিবারনের চেষ্ট চালাচ্ছে। শীতের তীব্রতায় ডায়রিয়া, আমাশয়, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশিসহ শীত জনিত রোগে ভূগছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
গ্রামাঞ্চলের নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমুল মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শীতের তীব্রতা ও শীতের গরম কাপড়ের অভাবে কাজকর্মে বিঘœ হচ্ছে। সঠিক সময়ে কাজে যেতে পারছেনা। শীতের তীব্রতায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে গ্রামের খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষেরা। ফলে দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে জীবন যাত্রা। উত্তর জনপদের ১৬ জেলার শ্রমজীবী মানুষেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে। কাজ করতে না পারায় পরিবারের খাদ্যের সংস্থান করতে পারছেন না।
শীতের তীব্রতায় গৃহপালিত পশু-পাখি যেমন গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগির বৃদ্ধি ও উৎপাদন কমে গেছে।  সেই সাথে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়েছে। পশু-পাখির মালিকেরা শীত নিবারনের ব্যবস্থা করেও মৃত্যু ঠেকাতে পারছেনা। শীতের তীব্রতায় উত্তর জনপদের ১৬ জেলা শহর তথা গ্রামাঞ্চলের কর্মজীবী খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষের জীবন যাত্রা দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে। সেই সাথে কৃষক, কৃষি ও কৃষি অর্থনৈতি স্থবির হয়ে পড়াতে কৃষি প্রধান উত্তর জনপদ উৎপাদনে পিছিয়ে পড়বে। উত্তর জনপদে পর্যাপ্ত পরিমানে শীত বস্ত্র সরবরাহ ও নিম্নবিত্ত-ছিন্নমুল মানুষের দাঁড়গোরে পৌঁছে দিতে সরকার ও বিত্তবানদের আবেদন জানিয়েছেন সুশিল সমাজ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ