সিসি ডেস্ক: মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ২০১৭ সালের শিক্ষার্থীরা ১৩০০ নম্বরে পরীক্ষা দেবে। আসন্ন শিক্ষাবর্ষে (২০১৫) নবম শ্রেণীতে নতুন দু’টি বিষয় যুক্ত হওয়ায় তাদের ১৩০০ নম্বার পরীক্ষা দিতে হবে। নবযুক্ত দু’টি বিষয় হচ্ছে ‘ক্যারিয়ার শিক্ষা’ এবং ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’। এরাই ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। পৃথক এ দু’টি বিষয়ের প্রত্যেকটির মান বণ্টন ৫০ (৫০+৫০=১০০) নম্বর করে নির্ধারণ করেছেন কারিকুলাম বিশেষজ্ঞরা। শিক্ষাসচিবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় কারিকুলাম কমিটি এনসিসি এতে অনুমোদন দিয়েছে। এ দিকে চলতি বছরের (২০১৪) এসএসসি পরীক্ষার্থীরা ১১০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আর ২০১৫ সালে পরীক্ষার্থীরা ১২ শ’ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নেবে।
এ ব্যাপারে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম মিঞা বলেন, আগামী ২০১৫ শিক্ষাবর্ষে নতুন আরো দু’টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৩ সালে নবম শ্রেণীতে আবশ্যিক হিসেবে ‘শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা’ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনি জানান, ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এসব বিষয়ে প্রথমবারের মতো ১৩০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নেবে।
জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০-এর নির্দেশনার আলোকেই মাধ্যমিক স্তরে পর্যায়ক্রমে ‘শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা’ এবং সর্বশেষ এবার (২০১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে) ‘ক্যারিয়ার শিক্ষা’ এবং ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ নতুন দু’টি বিষয় যুক্ত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উচ্চমাধ্যমিক স্তরেও এ বিষয়গুলোকে আগামীতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, আগামী শিক্ষা বছর (২০১৫) থেকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ৮০০ নম্বরের আবশ্যিক বিষয় পাঠ গ্রহণ করবে। বিষয়গুলো হচ্ছেÑ বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র (২০০), ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র (২০০), গণিত (১০০), ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা (১০০), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (৫০), ক্যারিয়ার শিক্ষা (৫০), শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা (১০০)।
এ ছাড়া বিভাগওয়ারী বিষয়ভিত্তিক চারটি বিষয়ে থাকবে ৪০০ নম্বর। এতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান/উচ্চতর গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবসায় উদ্যোগ, হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, বিজ্ঞান। আর মানবিক বিভাগের জন্য বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ভূগোল ও পরিবেশ, অর্থনীতি/পৌরনীতি ও নাগরিকতা, বিজ্ঞান। ঐচ্ছিক হিসেবে সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের আরো একটি বিষয় নিতে হবে। ৪০ নম্বরের অতিরিক্ত পেলে ওই নম্বর যোগ করে তাদের গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ (জিপিএ) করা হয়।
গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ (জিপিএ) ভিত্তিতে মাধ্যমিক স্তরের পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর আগে থেকেই এসএসসির শিক্ষার্থীরা ১১০০ নম্বরে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। ২০১৫ সালের এসএসসিতে ১২ শ’ এবং ২০১৭ সালে ১৩ শ’ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।