আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আবারও শেষ হাসিটা হাসলেন বিনইয়ামিন নেতানিয়াহুই। ২০তম নির্বাচনে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে ৪র্থ বারের মতো ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু। এরই মধ্যে জোট সরকার গঠনের জন্য সমমনা দলগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। এ ফলাফল মেনে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইসরাইলি আরব নেতারা। এ জয়ের মাধ্যমে ইসরাইলি এ নেতার ধ্বংসের রাজনীতি অপরিবর্তিত থাকবে বলে মনে করে ফিলিস্তিনিরা। পুর্ব জেরুজালেমে আগ্রাসন, দ্বিরাষ্ট্র সমাধান প্রস্তাবনা নিয়ে বিরোধ ও সবশেষ মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণের জের ধরে নানা সমালোচনার ঘেরাটোপে থাকলেও, ইসরাইলি রাজনীতির মঞ্চে নেতানিয়াহুই যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে তাই প্রমাণ হলো এ বিজয়ের বার্তায়, সমর্থকদের বাধভাঙা উল্লাসে। এদিকে নেতানিয়াহুর বিজয়ের মধ্যদিয়ে ইসরাইলের আগ্রাসী নিরাপত্তা নীতিরই জয় হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। এ নির্বাচনের ফলে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া আরো দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে আটকে যাবে বলেও মত তাদের।
পক্ষান্তরে নেতানিয়াহুর বিজয় ইসরাইল বা ফিলিস্তিনীদের জন্য কার্যত কোন পরিবর্তন বয়ে আনবে না বলে মনে করছেন ফিলিস্তিনি নেতারা। বুধবার ফিলিস্তিনের সংসদ সদস্য সায়েব এরাকাত বলেন, নেতানিয়াহুর রাজনীতিতে ধ্বংস আর আগ্রাসন ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু যে আবারো সরকার গঠন করবেন তা আমরা আগেই ধারণা করেছিলাম। তিনি নির্বাচনের আগে যেমনটা বলেছিলেন যে, ক্ষমতায় এলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাধা দেবেন তাতে বোঝাই যাচ্ছে আগ্রাসন ও দখলদারিত্ব বজায় রাখবেন তিনি। নেতানিয়াহু খুব সততার সাথে এটা জানিয়ে দিয়েছেন, নিজের রাজনৈতিক জীবনে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের প্রকল্পকে ধ্বংস করা ছাড়া আর কিছুই করেননি তিনি।
সমর্থকরা জানান, এটা অবিশ্বাস্য। সবাই তার সমালোচনা করেছে। কিন্তু এ বিজয় প্রমাণ করে আমাদের নেতা হওয়ার যোগ্যতা শুধু তারই আছে। যে যাই বলুক, আমরা জানি প্রতিটি ইসরাইলি মনে প্রাণে নেতানিয়াহুকে ধারণ করে। আজ বুধবার সকালে প্রতিদ্বন্দ্বী জায়োনিস্ট পার্টির চেয়ে এগিয়ে থাকার খবর প্রচারিত হওয়ার পর থেকেই সমর্থকদের নিয়ে বিজয় উৎসব শুর করেন নেতানিয়াহু। ভক্তদের উদ্দেশ্যে ভাষণে এই বিজয়কে সকল বিতর্কের বিরুদ্ধে জয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, আমাদের এ বিজয় ইসরাইলের সকল শক্রর বিরুদ্ধে বিজয়। আমরা ইহুদিদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়োজিত আমাদের সমমনা দলগুলোর সাথে মিলে দ্রুত সাথে একটি শক্তিশালী জোট গঠন করতে চাই। ইসরাইল একটি বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষা করে আছে, যারা তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় সবকিছু করতে প্রস্তুত। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষনার আগ পর্যন্ত নিজেদের বিজয় নিয়ে আশাবাদী ছিলেন আইজ্যাক হারজগের দল জায়োনিস্ট ইউনিয়নের নেতারা। ফলাফল ঘোষণার ঘন্টাখানেক আগেই তারা দাবী করেন ইসরাইলের জনগণ আর নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় না।
জায়োনিস্ট ইউনিয়নের নেতা মেরাব মিশেলি বলেন, এটা খুবই স্পষ্ট যে নেতানিয়াহু বিগত দিনগুলোয় ইসরাইলের অর্থনীতিকে যে ভগ্নদশায় নিয়ে গেছেন এরপর তাকে আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চায় কেউ। তার যুদ্ধনীতির কারণে সাধারণ ইসরাইলিদের জীবন মান অনেক নীচে নেমে গেছে। ইসরাইলি নির্বাচন কমিশন সূত্রে গণমাধ্যম জানায়, পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধান ২ প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে লিকুদ পার্টি ৩০টি ও জায়োনিস্ট ইউনিয়ন ২৪টি আসন পেয়েছে। আর আরব ইসরাইলিদের জোট পেয়েছে ১৪ টি আসন।
এ ফলাফলকে স্বাগত জানিয়ে ইসরাইলের আরবদেলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ১৫ বছরের মধ্যে এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণে সফল হয়েছে তারা। ইসরাইলি আরব নেতা আইমেন ওদেহ বলেন, আমরা প্রতিজ্ঞাভঙ্গ করিনি। এবারের নির্বাচনে আমরা আশাতীত ভোট পেয়েছি। ইসরাইলি পার্লামেন্টে ক্ষমতার দিক থেকে ৩য় স্থানে উন্নীত হয়েছে আরবদলগুলো। এটা আমাদের সাফল্যময় অধ্যায়ের শুরু।