• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন |

দিনাজপুর জিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতাল হৃদরোগীদের জন্য আশির্বাদ

DINAJPUR PIC 22-03-2015মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্স ইনস্টিটিউট উত্তরবঙ্গের হৃদরোগিদের জন্য এখন আল্লাহ’র দেয়া আর্শিবাদ। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ডাক্তার-টেকনেশিয়ানদের আন্তরিকতকায় সেবারমান অনেক উন্নত হয়েছে। জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের কারণে আল্লাহ’র রহমতে অনেক মানুষ অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। এমনকি দেশের বাইরে থেকেও হৃদরোগি এই হাসপাতালে আসছে।
পরিচালনা পর্ষদের দক্ষ পরিচালনায় এবং চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের আন্তরিকতার ফলে দিন দিন হাসপাতালের এ সেবার মান বাড়ছে। উত্তরবঙ্গে ১৬টি জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা এবং দেশের বাইরে থেকেও এই হাসপাতালে হৃদরোগিরা এসে সফল চিকিৎসা নিয়ে বাড়ী ফিরছেন। হাসপাতালের চীফ কার্ডিয়াক সার্জন ডা. ফয়েজুল ইসলাম ও চীফ কনসালটেন্ট ডা. কে এম সোহাইল দেশের খ্যাতিমান অন্যতম চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ। তাদের আন্তরিক চিকিৎসা সেবা এবং হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকের আন্তরিকতার ফলে অনেক জটিল অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
২৪ ঘন্টা সেবা দিয়ে যাচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রোগি ভর্তি হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসা দেয়া শুরু হয়। অপারেশনের প্রয়োজন হলে দ্রুত অপারেশনের কাজ শেষ করে যাতে রোগিকে বেশী দিন হাসপাতালে থেকে আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হয় না। একজন রোগির সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি অনেক বড় বড় ডাক্তারকে দেখিয়েছি এবং চিকিৎসা নিয়েছি। কিন্তু আমার রোগ ভালো হয়নি। অবশেষে জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে এসে আমি অল্প দিনে এবং কম সময়ে সুস্থ্য হয়ে উঠেছি। এই হাসপাতালে আগে আসলে আমার অনেক টাকা বেচে যেত।
হাসপাতালে কর্তব্যরত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ জানান, আমরা চেষ্টা করি যত দ্রুত সম্ভব রোগিকে চিকিৎসা দিয়ে আরোগ্য করতে। কারণ আর্থিক একটা বিষয় থাকে। তার আর্থিক খরচ যাতে কম হয় সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হয়। হৃদরোগ ব্যয় বহুল রোগ। অনেক রোগির সামর্থ হয়না পুরো টাকা খরচ করার। সেক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আর্থিকভাবেও রোগিকে সহায়তা করে। রোগিকে সুস্থ্য করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করি রোগিকে অল্প ব্যয়ে সুস্থ্য করতে। আমাদের আরেকটি লক্ষ্য হচ্ছে রোগিকে গভীরভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা এবং রোগির সাথে সর্বোচ্চ ভালো আচরন করা। কারন চিকিৎসকের আচরনেই রোগি অনেকটা সুস্থ্য হয়ে যায়। আমরা রোগির সাথে ভালো আচরনের বিষয়টিকে বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
এদিকে জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্স ইনস্টিটিউট পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল হোসেন পাটোয়ারী জানান, হাসপাতাল পরিচালনা করা খুব দুরহ হয়ে পড়েছে। কারন আমাদের দেশের মানুষ গরীব। অথচ হৃদ রোগটি খুবই জটিল রোগ এবং ব্যয় বহুল রোগ। ফলে অনেক রোগিই হাসপাতারের চাহিদা মাফিক অর্থ দিতে পারেননা। অনেকে আর্থিক সংকটের কারনে ফিরে যেতে চায়। সে ক্ষেত্রে আমরা হাসপাতাল থেকে অনেক টাকা মওকুফ করে দিয়ে হলেও রোগির চিকিৎসা করে থাকি। কারন চিকিৎসক জানে রোগিটি এই জটিলতা নিয়ে ফিরে গেলে হয়তো মৃত্যু হতে পারে। সে কারনে গরীব রোগিদের অনেক টাকা মওকুফ করে দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। আমাদের হাসপাতালে এখন দুইজন দেশের খ্যাতিমান হৃদ রোগ বিশেষজ্ঞ রুগিদের সেবা দিচ্ছেন।
এছাড়াও অনেক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ প্রতি মাসে খন্ডকালিন সেবা দিচ্ছেন। ফলে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ খুব সহজেই এই হাসপাতালে সেবা নিতে আসছেন। যদিও আমরা আর্থিক সংকটের মধ্যে সেবার মান উন্নত রেখেছি। অনেক সময় চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসের বেতন বকেয়া থাকে। পরবর্তি মাসে বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে হয়। বিত্তবান মানুষ যদি সাহায্যের হাত বাড়ায় তাহলে এই হাসপাতাল দেশের মধ্যে শীর্ষ হৃদরোগ নিরাময় হাসপাতালে পরিণত হবে ইনশাল্লাহ। তিনি বিত্তবান মানুষকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান। সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই হাসপাতাল আরো সফলতা অর্জন করতে পারবে আমার বিশ্বাস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ