রফিকুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রায় ৩২১ মে. টন ভিজিএফের চালের বিপরীতে অত্র উপজেলার ৩২০৮৫ দুঃস্থ-অসহায় পরিবারের মাঝে জন প্রতি ১০ কেজি চাল বিতরণের নামে চলছে নয় ছয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অত্র উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে জনসংখ্যার অনুপাতে সরকারিভাবে প্রায় ৩২১ মে. টন বরাদ্দ আসে। এতে ৩২০৮৫টি দুঃস্থ-অসহায় পরিবারের মাঝে প্রতি পরিবারে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ৩০ জুন ২০১৫ ইং এর মধ্যে তা সংশ্লিষ্ট স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদকে উত্তোলন করার নির্দেশনা দেয়া হয় এবং ১০ জুলাইয়ের মধ্যে তা বিতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে উমর মজিদ ইউপি’র বরাদ্দকৃত ৪৬ মে. টন চাল উত্তোলন করা হয়নি। এদিকে বাকী ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত চাল গত ৩০ জুন উত্তোলন করা দেখানো হলেও বিপরীতে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। সরজমিন জানা যায়, বেশিরভাগ ইউপি চেয়ারম্যানগণ তাদের বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চালের একটা অংশ ডিও ব্যবসায়ীদের মাঝে বিক্রি করে দিয়ে বাকী অংশ তাদের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে বিতরণের জন্য রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যানন্দ ও চাকিরপশার ইউপি’র সচিবের মুঠোফোনে ভিজিএফের চাল উত্তোলন সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, স্যার সব চাল এখনো উত্তোলন করা হয়নি এবং যে গুলো উত্তোলন করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের গুদাম ঘরে রাখা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। এক দিকে সরকারি খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ বলছে একটি ইউনিয়ন ব্যতিত ৬টি ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত সব ভিজিএফের চাল গত ৩০ জুনের মধ্যে ডেলিভেরী করা হয়েছে। আর ইউপি সচিবরা বললেন অন্য কথা। এসব কর্মকান্ড শুনে ইউএনও ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। যারাই ভিজিএফের চাল কেলেংকারীর সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। অপরদিকে ভিজিএফের তালিকায় ভুয়া নাম ব্যবহার করে মাষ্টাররোল তৈরি করে ভিজিএফের চাল আত্মসাৎ করার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের খবর ছড়িয়ে পড়লে সচেতন মহলরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউন গুলোতে ভিজিএফের চাল বিতরণের পূর্বে বরাদ্দকৃত চালের হিসাব মিলিয়ে বিতরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আমি গত ৫ জুলাই যোগদান করেছি। শুনেছি, উমর মজিদ ইউনিয়নের ভিজিএফের বরাদ্দকৃত ৪৬ মে. টন চাল ছাড়া বাকী ৬টি ইউনিয়নে গত ৩০ জুনের মধ্যে তাদের বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল উত্তোলন করেছেন। এছাড়া বেশি কিছু আমার জানা নেই। সবমিলিয়ে রাজারহাট উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ভিজিএফের বরাদ্দকৃত প্রায় ৩২১ মে. টন চাল উত্তোলন ও বিতরণে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। প্রকৃত অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারগুলোর বেশির ভাগই ভিজিএফের চাল থেকে বঞ্চিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কাগজ-কলমে ভুয়া নাম ব্যবহার করে প্রকৃত মাষ্টাররোল তৈরি পুর্বক পুকুর চুরির মহোৎসবে মেতে দুঃস্থদের বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল কালো বাজারে কিছু অসাধু ডিও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে তাদের গুদামে সংরক্ষণ রয়েছে বলে একাধিক অভিযোগ উঠেছে।