• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অনৈতিক কার্যকলাপে তোলপাড়

mobailঘোড়াঘাট থেকে ফিরে মোঃ আফজাল হোসেন: ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শামছুর রহমান কাজলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে এক নারীর সাথে দৈহিক সম্পর্কেও অভিযোগ উঠেছে। পরে বাধ্য হয়ে গোপনে বিয়ের পর ওই বিয়ে অস্বীকার করেছেন ওই কর্মকর্তা। পওে ওই নারীসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওই নারীর অভিযোগ করেন, বিয়ের প্রলোভনে ডা. কাজল তাঁর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। জরুরী কথা বলার প্রয়োজনে ডেকে গত বছর ১০ নভেম্বর দুপুরে ডা. কাজল ওই নারীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে শারিরিক সম্পর্ক করেন। এরপর বিকেলে ডা. কাজল তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে জন্মবিরতিকরন পিলের নাম লিখে ওই নারীর মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠান। মুফোফোনে থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ডা. কাজল ওই নারীর সাথে গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে এ বছর ৩১ মে পর্যন্ত কল করেছেন মোট ৫১১ বার। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েছেন ৯৬টি। প্রেম ভালোবাসা নিবেদনের পরক্ষনই ওই সব ক্ষুদেবার্তা মুছে ফেলে দেওয়ার জন্য ক্ষুদেবার্তা পাঠাতেন ডা.কাজল।
গত ৩১ মে ওই নারীকে গোপনে বিয়ের একদিন পরেই বিয়ে অস্বীকার করে ওই নারী সহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার পর ওই নারী গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এসব কথোপকথনের রেকর্ডগুলো দেন। ডা. কাজলের অনৈতিক সম্পর্কের কথা জানিয়ে এবং তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করে ওই নারী গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ, স্বাস্থ্য সচিব, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর আগে গত ১০ জুন দিনাজপুর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলাও করেছেন। ওই নারী জানান, ২০০৯ সালে স্বামীর সঙ্গে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তাঁর পর থেকে তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে ঘোড়াঘাটে থাকতেন। মা ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে চাকুরি করতেন। গত চার বছর আগে অবসরে যান। একদিন ডা. কাজলের কাছে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পর ওই নারীর পরিচয় ও ঠিকানা নিয়ে হঠাৎ করেই ডা. কাজল তাঁদের বাড়িতে আসা শুরু করেন। ওই নারী আরো জানান, কয়েক বছর আগে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর তিনি প্রায় বিসন্ন থাকতেন। ডা. কাজল ওই নারীর বাড়িতে এসে তাঁকে আলোর পথে এসে সুন্দর জীবন গড়ার পরামর্শ দিতেন। এক পর্যায়ে গত বছর অক্টোবর মাসে ডা. কাজল ওই নারীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সর্বশেষ গত বছর ১০ নভেম্বর জরুরী কথার জন্য চিকিৎসক তাঁর ব্যক্তিগত চেম্বার ও বাড়ি হাসপাতাল সংলগ্ন ‘সিটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ডেকে ওই নারীর সাথে শারিরিক সম্পর্ক করেন। এর পর থেকে ওই নারী ডা. কাজলকে বার বার বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু ডা. কাজল বিয়ে নিয়ে টালবাহানা শুরু করে। কয়েকদিনের মধ্যে ডা. কাজল সিভিল সার্জন হবেন। তার পরই তিনি ওই নারীকে বিয়ে করবেন বলে টালবাহানা শুরু করেন। এরপর ওই নারী বিষয়টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নারী চিকিৎসককে অবহিত করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী চিকিৎসক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ডা. কাজল তাঁকে ওই নারীর কথোপোকথনের রেকর্ড উদ্ধারের অনুরোধ করেন। নিজের স্ত্রী সন্তান থাকার পরও এ ধরনের অনৈতিক কাজের জন্য তিনি ডা. কাজলকে ভৎসনা করেন। এর মধ্যে বিষয়টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ এলাকাবাসী জেনে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। সকল কর্মকান্ডে বিরুপ প্রভাব পড়ছে। ডা. কাজল স্বাস্থ্য বিভাগের কলঙ্ক উল্লেখ করে অতিদ্রুত তাঁর দৃষ্টান্তমূলক বিচারসহ অপসারন দাবী করেছেন। এক পর্যায়ে গত ৩১ মে ডা. কাজল রংপুরে গিয়ে ওই নারীর সাথে বিয়ে রেজিষ্ট্রি করেন। বিয়ের পর ওই নারীর বাসায় এক রাত্রী যাপনও করেন। এর একদিন পর ডা. কাজলকে তাঁকে অপহরণ করে জোর করে বিয়ের অভিযোগ এনে ওই নারী ও তাঁর বৃদ্ধা মা, প্রভাষক ভাইসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে রংপুর কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। এর পর থেকে ওই নারীকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকেন। এদিকে ডা. কাজলের স্ত্রী লক্ষীপুর জেলা সদরের দক্ষিণ মজুপুর মহল্লার কামাল উদ্দিনের মেয়ে ফাহমিদা ইয়াসমিন জানান, ডা. কাজল একই জেলার পার্শ্ববর্তী কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত সাইদুর রহমানের ছেলে। ২০০৬ সালের ১৪ এপ্রিল তাঁর সাথে ডা. কাজলের বিয়ে হয়। তাঁদের পাঁচ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন ডা. কাজল খারাপ চরিত্রের মানুষ। একাধিক নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক করতেন ডা. কাজল। বিয়ের পর থেকে ডা. কাজল কখনই তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে রাখতে চাইতো না। সন্তানের কথা ভেবে ফাহমিদা অনেকটা জোর করে কাজলের সাথে থাকতেন। ২০১২ সালের ১২ই আগষ্ট দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করার পর ডা. কাজল তাঁর স্ত্রীকে সেখানে নিয়ে যায়নি। গত দুই বছর থেকে ডা. কাজল তাঁর সাথে কোন যোগাযোগ রাখেননি। সন্তানেরও কোন খোঁজও নেননি। এ ঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। ঘটনার পর গত ৫ জুন ডা. কাজলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই সময় ওই নারীর সাথে কোন সম্পর্ক ছিল না বলে দাবী করেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার ওই নারীর সাথে তাঁর কথোপোকথনের রেকর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি জানান, কারো সাথে কথা হতেই পারে। কিন্তু ওই নারীর সাথে কুরুচিপূর্ণ কথোপোকথন বা ক্ষুদে বার্তা পাঠানো এবং এসব উদ্ধারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নারী চিকিৎসকের সাহায্য চাওয়া বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলেননি। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের কোন খোঁজ না নেওয়ার বিষয়ে জানাতে চাইলেও তিনি কোন উত্তর দেননি। ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোখছানা বেগম অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানান, যেহেতু এ বিষয়ে মামলা হয়েছে তাই তিনি এখন কোন মন্তব্য করবেন না। দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-নবাবগঞ্জ-হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট) আসনের সাংসদ ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শিবলী সাদিক জানান, ঘটনার সত্যতা থাকলে তা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া হবেনা। ওই চিকিৎসকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ