খেলাধুলা ডেস্ক: বাংলাদেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের প্রতি আস্থা রাখেন এমন মানুষের সংখ্যা কমই বলা চলে। পূর্বাভাসে যা বলা হয় তার উল্টোটা অনেক সময়ই ঘটতে দেখা যায়। তবে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বেশ মিলে যাচ্ছে। প্রথম টেস্ট শুরুর আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল টেস্টের প্রথম দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয় দিন বেশ বৃষ্টি হবে। তৃতীয় দিন বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে। আর শেষ দুই দিন মুষলধারে বৃষ্টি হবে।
টেস্টের প্রথম দিন বৃষ্টি হয়নি। দ্বিতীয় দিন বৃষ্টির কারণে খেলা পরিত্যক্ত হয়। তৃতীয় দিনেও বৃষ্টির কারণে শেষ পর্যন্ত খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়েছে। চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে কী হয় সেটা দেখার বিষয়। তবে একটা আশার বিষয় হল তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ এখনো ১৭ রানে এগিয়ে রয়েছে। দিনের খেলা পরিত্যক্ত হওয়ার আগে ২১.১ ওভারে বিনা উইকেটে ৬১ রান সংগ্রহ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
এর আগে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। ক্রিজে ছিলেন মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান। তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে বাকি ৬টি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তাদের স্কোরশিটে আরো ১৪৭ রান যোগ করতে সক্ষম হয়। তাতে দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে ৭৮ রানে এগিয়ে থাকে বাংলাদেশ। অবশ্য বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশ আরো ভালো খেলবে। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীন ব্যাটিং আর ভুল শট নির্বাচনে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিম (২৮) শুরুতেই আউট হন। সাকিব আল হাসান ৪৭ রান করে আউট হন। বোলার মোহাম্মদ শহিদ মারমুখী ব্যাটিং করে ২৫ রানে আউট হন। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর আউট হন লিটন দাসও (৫০)। ৩২৫ রানে তাইজুল ইসলাম (৯) আউট হওয়ার পর ৩২৬ রানেই আউট হয়ে যান মুস্তাফিজুর রহমান (৩)।
৭৮ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ইনিংসের ভুলগুলো শুধরে বেশ সতর্কতার সঙ্গে ব্যাট করতে থাকেন ডিন এলগার ও ফন জিল। দ্বিতীয় ইনিংসে ২১.১ ওভার শেষে প্রোটিয়াদের সংগ্রহ যখন বিনা উইকেটে ৬১ রান, তখন মেঘের ঘনঘটায় আলো স্বল্পতা দেখা দেয়। ফলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বৃষ্টি এসে বাগড়া দেয়। আলো স্বল্পতার পরে বৃষ্টির কারণে বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। আম্পায়াররা আরো একটি পর্যবেক্ষনের চিন্তা করছিলেন। কিন্তু গুড়িগুড়ি বৃষ্টি তাদের সেই চিন্তা শেষ পর্যন্ত বাদ দিতে বাধ্য করে। ফলে আম্পায়াররা দিনের খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।
খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ব্যাট করছিলেন ডিন এলগার (২৮) ও স্টিয়ান ফন জিল (৩৩)। চতুর্থ দিনে তারা আবার ব্যাট করতে নামবেন। বাংলাদেশের থেকে এখনো ১৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা। তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের যে ৬টি উইকেটের পতন ঘটেছে তার ৩টি নিয়েছেন ডেল স্টেইন, ২টি নিয়েছেন হার্মার, অন্যটি নিয়েছেন ফিলান্ডার।