সিসি ডেস্ক : কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির মুখে বিদ্যমান পদ্ধতিতে কিছু সংস্কার এনে সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বহাল রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এর আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত পে-স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত পে-কমিশন।
পে-স্কেল মন্ত্রিপরিষদে কবে উঠছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সোমবারের মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে হয়তো উঠছে না। তবে পরবর্তী বৈঠকে পে-স্কেল উঠবে। এর আগে বেশ কিছু কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলো শেষ করা হবে। বিষয়টি খুবই সংবেদনশীল, তাই সাবধানে এগোতে হচ্ছে। অনেক হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে। তবে হ্যাঁ, আমি আগামী ২২ সেপ্টম্বর দেশের বাইরে যাব, তার আগেই বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।’
সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ দুটোই থাকবে। তবে বিদ্যমান পদ্ধতিতে কিছু সংস্কার করা হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকেই টাইমস্কেল বহার রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তারা বলছেন, টাইমস্কেল তুলে দেওয়া হলে অনেকেই ভাতে মরবেন। আমি মনে করি, তাদের এ দাবি যুক্তিসংগত। তাদের একটি জাম্পের প্রয়োজন রয়েছে। তাদের এ সুযোগ দেওয়া হবে। এসব কারণেই পে-স্কেল চূড়ান্ত হতে একটু দেরি হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত হবে। এবং চলতি বছরের জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে।’
এর আগে গত ৩ আগস্ট অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের নেতারা প্রস্তাবিত বেতন স্কেলে বৈষম্য দূরীকরণ, টাইম স্কেল বহাল রাখা ও শতভাগ সিলেকশন গ্রেড দেওয়ার দাবি জানান।
এ ছাড়া সচিবালয়ের বাইরে ও সচিবালয়ে কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যে পদোন্নতির বৈষম্য দূরীকরণ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে বৈষম্য বিলোপ করে সংবিধান অনুযায়ী সকলেই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী- এই মতবাদ প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী ছয় সদস্যের হিসাবে পে-স্কেল প্রদানের দাবি জানান তারা।
তবে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শেষে পরিষদ নেতাদের মূল দাবি দাঁড়ায় তিনটি। সেগুলো হচ্ছে- প্রস্তাবিত বেতন স্কেলে গ্রেড-সংখ্যা ১৬টি রাখা, ন্যূনতম বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং প্রতিটি গ্রেডের মধ্যে বেতন-পার্থক্য ১ হাজার টাকায় উন্নীত করা।
সমন্বয় পরিষদের নেতারা তাদের দাবির সপক্ষে বলেন, কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত ১০টি গ্রেডে মোট আর্থিক ব্যবধান ৪ হাজার ২০০ টাকা (৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১২ হাজার ৫০ টাকা)। অন্যদিকে কর্মকর্তাদের জন্য ১০টি গ্রেডে মোট আর্থিক ব্যবধান ৫৯ হাজার টাকা (১৬ হাজার টাকা থেকে ৭৫ হাজার টাকা)। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনের মধ্যে পার্থক্য মেনে নিলেও আর্থিক পার্থক্যটি একটি বড় ধরনের বৈষম্য বলে উল্লেখ করেন তারা।
এ ছাড়া কর্মচারীদের প্রতিটি গ্রেডে বেতন-পার্থক্য মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। অন্যদিকে কর্মকর্তাদের প্রতিটি গ্রেডে বেতন পার্থক্য ৮ হাজার টাকা থেকে ১১ হাজার টাকা। এটাও এক ধরনের বৈষম্য। কর্মচারীদের প্রতিটি গ্রেডে বেতন পার্থক্য অন্তত ১ হাজার টাকা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন পরিষদ নেতারা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই হচ্ছে। এ কারণে পে-স্কেল বাস্তবায়নে কিছুটা দেরি হচ্ছে।’