ঢাকা: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার পর সমালোচনার মুখে এবার দাম সমন্বয় করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে ৪০ ডলারে পৌঁছেছে। ২০০৯ সালের মার্চের পর এই প্রথম জ্বালানি তেলের দাম এ পর্যায়ে নেমে এল। ফলে এটা স্পষ্ট যে মূল্য সমন্বয় করলে বাংলাদেশের বাজারে তেলের দাম কমবে।
সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সফররত আইএমএফ নির্বাহী পরিচালক রাকেশ মোহনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুহিত বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে জ্বালানি তেলের দাম ভালোই কমেছে। আমাদেরকেও রিভাইজড (পুনর্নির্ধারণ) করতে হবে।
‘সে জন্য জ্বালানি বিভাগকে সার্বিক বিষয় বিশ্লেষণ করে একটা পেপার তৈরি করতে বলা হয়েছে। তারা পেপারটি তৈরি করলে সেই পেপারের আলোকেই অয়েল প্রাইস পুনর্নির্ধারণ করা হবে।’
কবে তা করা হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি বিভাগ পেপারটি তৈরি করুক। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাবেন, আমিও যাব। তার আগেই তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে।’
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কমলেও স্থানীয় বাজারে কমায়নি সরকার। এ নিয়ে সরকারের সমালোচনা হচ্ছিল।
তেলের দাম না কমানোর যুক্তি হিসেবে অর্থমন্ত্রী বার বার আগের ভর্তুকি কমিয়ে আনার কথা বলছিলেন।
বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলছিলেন, ‘বছর বছর লোকসান দিতে দিতে বিপিসি একটি ‘জঞ্জাল’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সেই জঞ্জাল দূর করতেই তেলের দাম কমানো হচ্ছে না।
সরকারের জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনকারী সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান এ এম বদরুদ্দোজা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সব ধরনের তেল বিক্রি করে মুনাফা করছে বিপিসি।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কথা বলে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার কয়েক দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়।
সর্বশেষ ২০১৩ সালে সমন্বয়ের সময় বাড়ানো হয়েছিল জ্বালানি তেলের দাম। বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেন ৯৯ টাকা, পেট্রোল ৯৭ টাকা, কেরোসিন ও ডিজেল ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার পর সম্প্রতি ভারতে কয়েক দফায় জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়েছে।