গাইবান্ধা : করতোয়া নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গাইবান্ধা জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আবারও অবনতি হয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় করতোয়া নদীর পানি ১৯ সে. মি. বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপদসীমার ২৪ সে. মি. এবং ব্রহ্মপুত্র ১৬ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর মহাসড়কে তরক মনু এলাকায় করতোয়ার পানি যেকোন মুহুর্তে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন বালির বস্তা ফেলে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে গোবিন্দগঞ্জের ফুলবাড়ি ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ফতেউল্যাহপুর রায়বাড়ি সংলগ্ন করতোয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। ফলে তালুককানুপুর ইউনিয়নের সোনাইডাঙ্গা, সমসপাড়া, ধুন্দিয়া ও কুটিপাড়া, রাখালবুরুজের বিষপুকুর, ধর্মপুর, নয়াপাড়া, কাজিপাড়া ও সোনাইডাঙ্গা, কামারদহের বকসীচর, ঘোড়ামারা, গুমানিগঞ্জের কুড়িপাইকা, মদনতাইড়, মহিমাগঞ্জের বালুয়া, বামনহাজরা, চর বালুয়া ও বোচাদহ এবং গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার আরজি খলসি, কালিকাডোবা, চাঁদপুর খলসি এলাকার আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে এবং বসতবাড়িতে পানি উঠেছে।
অপরদিকে সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অবহ্যাত থাকায় দক্ষিণ সাহাবাজ বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। ফলে দক্ষিণ সাহাবাজ, উত্তর সাহাবাজ, গারোকাটা, মাস্টারপাড়া ও রামভদ্র নয়ারহাট এলাকার ৫০০ পরিবার এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
এদিকে সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ও বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ২ হাজার বন্যা দুর্গত মানুষদের মাঝে বুধবার জরুরী ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন সুন্দরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন, জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ। এসময় তার সাথে ছিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হাই মিল্টন।