পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের পার্বতীপুরে প্রধান শিক্ষকের হাতে মার খেয়ে এক স্কুল ছাত্র এখন হাসপাতালে। গত শনিবার দুপুরে শহরের জ্ঞানাঙ্কুুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত ছাত্র শহরের গুলপাড়া মহল্লার ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের ছেলে। বর্তমানে সে রংপুরের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জানা গেছে, পার্বতীপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্টান জ্ঞানাঙ্কুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ‘ক’ শাখার মেধাবী ছাত্র আজহারুল হক রাতুল (১৩) (রোল নং ৩) দুপুর ১২টার দিকে ক্লাস চলাকালে সহপাঠীর সাথে দুষ্টমি করার সময় একই ক্লাসের হাসানুল ইসলামের জামায় বলপেনের কালি লাগে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে সে প্রধান শিক্ষকের কাছে রাতুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। প্রধান শিক্ষক তৎক্ষনাৎ শ্রেণী কক্ষে গিয়ে রাতুলের দু’গালে চড়-থাপ্পড় মারেন। এতে রাতুলের বাম কান দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। আতংকিত রাতুল শ্রেণী কক্ষ থেকে এক দৌড়ে সে বাড়ীতে চলে যায়। ছেলের অবস্থা দেখে হতভম্ভ মা আফরোজা বেগম প্রতিবেশীদের সহযোগীতায় সঙ্গে সঙ্গে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করান। কিন্তু সেখানে কোন বিশেষজ্ঞ ডাঃ না থাকায় করর্তব্যরত ডাক্তারা তাকে সৈয়দপুরের নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডাঃ আজগর আলীর নিকট চিকিৎসা জন্য সুপারিশ করেন। তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার পরও অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ রোববার বিকেলে তাকে রংপুরের ধাপে ডাঃ আজিজুল হকের ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এসময়ও তার কান দিয়ে রক্ত ঝরছিল।
ছাত্র কে মারপিটের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশেক উল্ল্যাহ বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্কিত ঘটনা। আমি রোববার সকালে আহত ছাত্রকে দেখতে গিয়েছিলাম। আশা করি শীঘ্রই সে সুস্থ্য হয়ে ওঠবে।
আহত ছাত্রের পিতা আশরাফুল হক বলেন, থাপ্পড়ের কারনে কানের পর্দা ফেটে গেছে বলে ডাক্তার তাকে জানিয়েছেন। থাপ্পড়ের কারনে ছেলের কানের বড় ধরনের ক্ষতি হলে তিনি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান। এ বিষয়ে তিনি স্কুল কমিটির সভাপতি ও পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম এবং পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম কে মৌখিক ভাবে অবহিত করেছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শমসের আলী মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে ডেকেছেন। মডেল থানার ওসি মাহমুদুল আলম বলেন, তিনি ঘটনাটি জেনেছেন তবে তাকে লিখিত ভাবে রোববার পর্যন্ত কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাকে মৌখিক ভাবে অবগত করেছেন আহত ছাত্রের পিতা আশরাফুল ইসলাম। তিনি আহত ছাত্রের চিকিৎসার উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, আগে সে সুস্থ্য হয়ে উঠুক। তার পর ঘটনা খতিয়ে দেখে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।