আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মুম্বইয়ে শিনা বোরা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সাবেক চ্যানেল কর্ত্রী ইন্দ্রাণী মুখার্জির প্রথম স্বামী সিদ্ধার্থ দাসের খোঁজ পাওয়া গেছে কলকাতায়। দমদমের কাছে দুর্গানগর এলাকায় স্ত্রী ও পুত্রসহ তার সুখের সংসার। সেই সংসারে কোন কালো ছায়া লাগুক সেটা চান না বলেই চুপচাপ রয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত মিডিয়ার অনুসন্ধানে ধরা পড়েছেন তিনি। তবে জানিয়েছেন, ইন্দ্রাণীকে তিনি বিয়ে করেন নি। গুয়াহাটিতে ইন্দ্রাণীর বাড়িতেই তার সঙ্গে ‘লিভ ইন’ করতেন। শিনা ও মিখাইলের বায়োলজিক্যাল ফাদার যে তিনিই সেকথাও জানিয়েছেন। আর তাই শিনার খুন হওয়ার খবরে পিতা হিসেবে আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, ইন্দ্রাণী অত্যন্ত লোভী মহিলা, খুন তিনি করতেই পারেন। আমার টাকার অভাব ছিল তাই আমাকে ছেড়ে যান ইন্দ্রাণী। সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, ইন্দ্রাণীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়নি। ইন্দ্রাণীর গুয়াহাটির বাড়িতে তারা ‘লিভ-ইন’ করতেন। সেখানেই শিনা ও মিখাইলের জন্ম। ১৯৮৭ সালে জন্ম হয় শিনার, মিখাইলের জন্ম ১৯৮৮ সালে। যদিও, শিনার বার্থ সার্টিফিকেটে তার জন্ম ১৯৮৯ সাল বলে উল্লেখ রয়েছে। সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, দুই সন্তানের জন্মের কিছুদিন পর ১৯৮৯ সালে ইন্দ্রাণী হঠাৎ করে একদিন শিলং কাজে যাচ্ছি বলে সেই যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তারপর আর ফিরে আসেন নি। দুই সন্তানের দায়িত্ব মা দুর্গারানি দাসের হাতে তুলে দিতে ইন্দ্রাণী যে আদালতনামায় সই করেছিলেন সেখানেও তিনি জানিয়েছিলেন ১৯৮৯ সালের পর থেকে তার সঙ্গে সিদ্ধার্থের কোন সম্পর্ক ছিল না। সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, ইন্দ্রাণী চলে যাওয়ার পর অপমানিত হয়েই তিনি চলে এসেছিলেন কলকাতায়। বিয়েও করেন। একটি ১৬ বছরের ছেলে রয়েছে। বেসরকারি সংস্থায় অল্প টাকার চাকরি করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। শিলংয়ে থাকার সময় ইন্দ্রাণীর আগেই তার সঙ্গে বর্তমান স্ত্রীর আলাপ হয়। সিদ্ধার্থ’র দাবি, কাগজ পড়েই তিনি শিনার মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। শিনা-মিখাইল-ইন্দ্রাণী কারও সঙ্গেই তার কোন যোগাযোগ ছিল না এই দীর্ঘ সময়ে। শিনা খুনে মিসিং লিঙ্কের হদিস পেতে সিদ্ধার্থ’র সঙ্গে কথা বলতে চায় পুলিশ। তার খোঁজে গতকালই কলকাতায় এসেছে মুম্বই পুলিশের একটি দল। এদিকে, সিদ্ধার্থ দাসের স্ত্রী জানিয়েছেন, স্বামী তাকে কখনও কিছু বলেন নি। তিনিও স্বামীর অতীত জানতে চান না।