ঢাকা : অবৈধভাবে ডাটা ইনপুটের মাধ্যমে ব্যাংকের ৮কোটি ৯৮ লাখ টাকা জালিয়াতি হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে র্যাব-৩ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সস্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন র্যাব-৩ এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সরোয়ার আলম।
তিনি দাবি করেন, এনসিসি ব্যাংকের প্রায় ৯ কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান (৩২) ছাড়াও অভ্যন্তরীণ অন্যান্য কর্মকর্তারাও জড়িত থাকতে।
তিনি মনে করেন, গত পাঁচ বছর ধরে ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তা হতে পারে না। নিশ্চয়ই এর পেছনে একজন জড়িত নয়, অন্যরাও জড়িত থাকতে পারে।
তিনি বলেন, সিদ্দিকুর রহমান গত ২০০৯ সালের ২ সেপ্টেম্বার সহকারী অফিসার হিসেবে এনসিসি ব্যাংকে যোগদান করেন। এ সময় তিনি ওই ব্যাংকের হেড অফিসে ডাটা প্রসেসর হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে তিনি পদোন্নতি পেয়ে অফিসার হন। তিনি কর্মরত থাকাকালীন অবৈধভাবে ডাটা ইনপুটের মাধ্যমে ব্যাংকের ৮কোটি ৯৮ লাখ টাকা নিজের এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যের একাউন্টে স্থানান্তর করেন।
গত জুন মাসের শেষের দিকে বিষয়টি নজরে আসে এবং সিদ্দিককে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই দিনের পর থেকে সিদ্দিক গা ঢাকা দেয়। অফিসেও আসেন না, বাসায়ও যান না। ফলে ২৪ জুন ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা মতিঝিল থানায় গিযে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর বিষয়টি র্যাবকে জানানো হয়।
দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে র্যাব জানতে পারে, সিদ্দিকুর রহমান কমলাপুর এলাকায় গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। গতকাল বুধবার রাতে ওই এলাকার একটি বাসা থেকে সিদ্দিকুরকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিদ্দিকুর জানান, গত ৫ বছর ধরে এ কাজ করে আসছেন তিনি। বিদেশ থেকে যখন টাকা আসতো সেই সময় কম্পিউটারে ডাটা ইনপুটের মাধ্যমে টাকাগুলো নিজের একাউন্টে স্থানান্তর করতেন তিনি।
মোট পাঁচটি একাউন্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইএফটি ফান্ডের মাধ্যমে টাকাগুলো স্থানান্তর করেছেন।তার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা ছাড়া দুদকেও একটি মামলা করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর মধ্যে পাঁচকোটি টাকা খরচ করে ফেলেছেন। ফরিদপুর এলাকায় জমি কেনা, সুন্দর একটি বাড়ি কেনা এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের ঘুষ প্রদান করার মাধ্যমে এসব টাকা খরচ করেছেন তিনি। বাকী টাকা তার মা এবং স্ত্রীর একাউন্টে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনার মাধ্যমে এখন থেকে অন্য ব্যাংকগুলোও সতর্ক থাকবে বলে আশা প্রকাশ করে র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিসি ব্যাংকের ডিএমডি ফজলুর রহমান উপস্থিত থেকে বলেন, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট কর্মকর্তারাও জড়িত থাকতে পারে। কারণ এত বছরেও কেন ধরতে পারলেন না তারা? এ ব্যাপারে ব্যাংকের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
তিনি আরো বলেন, সিদ্দিকুর রহমান ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে একাউন্টিংয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি এনসিসি ব্যাংকে ২০০৯ সালে সহকারী অফিসার হিসেবে যোগ দেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ব্যাংকের ডিএমডি ফজলুর রহমান বলেন, কোনো গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেননি তিনি। সম্পূর্ণভাবে ব্যাংকের লভ্যাংশ থেকে এ টাকা আত্মসাৎ করেছেন সিদ্দিক। তাকে ফাঁসানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ফজলুর রহমান বলেন, তার সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা নেই। তাকে ফাঁসানোও হয়নি।