সিসি নিউজ: পরীক্ষা দিতে এসে নিয়োগ কর্তাদের হদিশ মিলেনি। তাই চাকুরী প্রত্যাশীরা নিয়োগকারী ওই প্রতিষ্ঠানের শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। নীলফামারীর সৈয়দপুওে আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ওই ঘটনা ঘটে।
সূত্র মতে, জনকল্যাণ সোস্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (জেএসডিও) নামে একটি সংস্থা গত ২৫ আগষ্ট দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে জোনাল ম্যানেজার, সহকারী জোনাল ম্যানেজার, এরিয়া ম্যানেজার, সহকারী এরিয়া ম্যানেজার, শাখা ব্যবস্থাপক, শাখা হিসাব রক্ষক, ফিল্ড অফিসার ও সহকারী ফিল্ড অফিসার পদে লোক নিয়োগ করা হবে। ওইসব পদে মোট ৭৩০ জনকে নিয়োগ করার কথা উল্লেখ করা হয়।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আজ শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁ, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার প্রার্থীদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে (বাংলা হাই স্কুল)। একই দিনে ওই কেন্দ্রে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় লিখিত পরীক্ষার পূর্বে পরীক্ষার ফি হিসেবে প্রথম ৬টি পদের জন্য ১৫০ টাকা এবং পরবর্তী ২টি পদের জন্য ১০০ টাকা প্রদানের কথা বিজ্ঞপ্তিতে উলেলখ করা হয়েছে। সে মোতাবেক উল্লেখিত জেলার প্রায় দু’হাজার চাকুরী প্রত্যাশী বেকার যুবক-যুবতীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয় সকাল ৯টার পূর্বে। কিন্তু সকাল ৯টা পেরিয়ে গেলেও সংস্থাটির কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের কোন কক্ষ খোলা না পেয়ে চাকুরী প্রত্যাশীদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষনিক তারা স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারে, এ ধরনের কোন নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা স্কুল কর্তৃপক্ষের জানা নেই। নিয়োগ প্রত্যাশীরা একজোট হয়ে সংস্থাটি বিচারের দাবিতে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক অবরোধ করে। সেই সাথে দৈনিক প্রথম আলোর মতো একটি পত্রিকা এ ধরনের ভুয়া নিযোগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় পত্রিকাটির বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা।
চাকুরী প্রত্যাশীদের মধ্যে পঞ্চগড়ের রেজাউল করিম, দিনাজপুরের খোরশেদ আলম, চিরিরবন্দরের শাহানাজ ও ডোমারের রাকিব জানান, অনেক আশা নিয়ে টাকা খরচ করে পরীক্ষা দিতে এসেছি। এসেই বুঝলাম প্রতারণার ফাঁদে পরেছি। প্রথম আলো পত্রিকার বিজ্ঞাপন বিশ্বাস করে এসেছি।
কথা হয় সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল হকের সাথে। তিনি সিসি নিউজকে জানান, পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ওই সংস্থার পক্ষে এডমিন পরিচয়ে এক ব্যাক্তি এসেছিলেন সপ্তাহখানেক আগে। আমি ওই ব্যাক্তিকে প্রতিষ্ঠানের বরাবরে আবেদন করতে বলেছি। এরপরে আমার সাথে আর কেউ যোগাযোগ করেনি।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন সিসি নিউজকে জানান, প্রতারণার স্বীকার বেকার যুবক-যুবতীদের সাথে কথা বলার পর তারা অবরোধ তুলে নেয়। অপরদিকে প্রতারণার সাথে কার জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, জেএসডিও সংস্থার ঠিকানা হচ্ছে হাউস নং-১৮ রোড-২ ব্লক-বি, সেকশন-৬ মীরপুর-২ ঢাকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়।