• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন |

ভ্যাট বিতর্কে এনবিআরের নতুন ব্যাখ্যা

রাজস্ব ভবনসিসি ডেস্ক: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ভ্যাট আরোপের বিষয়ে আরো বিস্তারিত ও আইনি আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সরকারের আরোপিত ভ্যাট নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেওয়ায় এনবিআরের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শনিবার নতুন করে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। যা প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও দেওয়া হয়েছে।

এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ এ মুমেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এনবিআরের ওই আইনি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ব্যবস্থায় দুই পদ্ধতিতে সেবা মূল্য নির্ধারণ করা হয়। একটি ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত মূল্য, আর অপরটি ভ্যাট বহির্ভূত মূল্য। যদি সেবার মূল্য ও ভ্যাট আলাদাভাবে উল্লেখ না থাকে, তাহলে সেবার বিপরীতে যে মূল্য আদায় করা হয়, সে মূল্য হলো ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত মূল্য। এই অন্তর্ভুক্ত মূল্য থেকে ভ্যাট পৃথক করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

আইনি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১-এর ধারা ৫-এর উপ-ধারা (৪) অনুযায়ী, সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর ধার্য করা হইবে সর্বমোট প্রাপ্তির ওপর।

সর্বমোট প্রাপ্তি’র সংজ্ঞায় বলা রয়েছে, সর্বমোট প্রাপ্ত অর্থ করযোগ্য সেবা প্রদানকারী কর্তৃক প্রদত্ত সেবার বিনিময়ে মূল্য সংযোজন কর ব্যতীত কমিশন বা চার্জসহ প্রাপ্য বা প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ।

মূল্য সংযোজন কর বিধিমালা, ১৯৯১-এর ২৩ নম্বর বিধিতে ভ্যাট পরিশোধের পদ্ধতি বর্ণিত আছে। ওই বিধি অনুসারে, আমাদের দেশের মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় সেবার সর্বমোট মূল্য দুই ধরনের হতে পারে- ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত মূল্য ও ভ্যাট বহির্ভূত মূল্য। সেবার মূল্যএবং ভ্যাট আলাদাভাবে উল্লেখ না থাকলে, সেবা প্রদান বাবদ যে মূল্য গ্রহণ করা হয়, সেই মূল্য হলো ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত মূল্য। অর্থাৎ এই মূল্যের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ হিসাব অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী নয়, ভ্যাট দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কারণ দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত মূল্য’পদ্ধতিতে টিউশন ফি নিয়ে থাকে। বিদ্যমান টিউশন ফির মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাই টিউশন ফি বাড়ানোরও কোনো সুযোগ নেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

আর ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত মূল্য থেকে ভ্যাট আলাদা করার একটি পদ্ধতি হলো, মোট মূল্যকে ১০০ + ভ্যাটের হার = যা হয়, তা দিয়ে ভাগ করতে হবে। তারপর ভাগফলকে ভ্যাটের হার দিয়ে গুণ করতে হবে। তাহলে ভ্যাটের পরিমাণ পাওয়া যাবে।

বিষয়টি স্পস্ট করতে এনবিআরের পক্ষ থেকে উদাহরণ দিয়ে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ধরা যাক, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ১ লাখ টাকা টিউশন ফি গ্রহণ করে। এই মূল্য হলো ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত মূল্য। ১ লাখ টাকাকে ১০৭ দশমিক ৫ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যাবে ৯৩০.২৩ টাকা। এই মূল্যকে ৭.৫ দিয়ে গুণ করলে পাওয়া যাবে ৬ হাজার ৯৭৬ দশমিক ৭৪ টাকা। অর্থাৎ ১ লাখ টাকার মধ্যে ভ্যাটের পরিমাণ হলো ৬ হাজার ৯৭৬ দশমিক ৭৪ টাকা। ১ লাখ টাকা থেকে ভ্যাট বাবদ ওই টাকা বিয়োগ করলে অবশিষ্ট থাকে ৯৩ হাজার ২৩ দশমিক ২৬ টাকা। আর এই হলো সর্বমোট প্রাপ্তি। অর্থাৎ ১ লা্খ টাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে ‘সর্বমোট প্রাপ্তি’বাবদ ৯৩ হাজার ২৩ দশমিক ২৬ টাকা এবং ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট বাবদ সরকারকে প্রদান করবে ৬ হাজার ৯৭৬ দশমিক ৭৪ টাকা।

এর আগে বৃহস্পতিবার এক ব্যাখ্যায় এনবিআর বলেছিল, নতুন করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়ের উদ্দেশ্যে ভ্যাট আরোপ করা হয়নি। বিদ্যমান টিউশন ফির মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ অর্থ পরিশোধ করার দায়িত্ব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, শিক্ষার্থীদের নয়। তাই টিউশন ফি বাড়ার কোনো সুযোগ নেই।

আরো বিস্তারিত জানতে এনবিআরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ক্লিক করলে জানা যাবে। ভ্যাট বিতর্কের বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে ক্লিক করুন- http://www.nbr.gov.bd/contents/public_notice/65.pdf


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ