খুলনা : ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে স্বর্ণালী শেখ (১৯) নামের এক তরুণীর প্রেমে পড়ে খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মাজেদুল খান (২২)। এরপর জিহাদ ও শহিদুল নামের দু’ ছেলে বন্ধুর সঙ্গে মাজেদুলকে পরিচয় করিয়ে দেয় ওই তরুণী। এরপর তিনজন মিলে তৈরি করে প্রতারণার ফাঁদ।
ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মেয়েটির সঙ্গে কৌশলে আপত্তিকর ছবি তোলা হয় মাজেদুলের। তারপর ওই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে প্রতারক চক্র মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে মাজেদুলের কাছে। উপায়ন্তর না দেখে মাজেদুল তার মা-বোনের সাত ভরি স্বর্ণালঙ্কার তুলে দেয় মেয়েটির হাতে।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ রোববার বিকেলে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের সদস্য স্বর্ণালী শেখ ও তার সহযোগী জিহাদ এবং শহিদুলকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জিহাদের হাজী মহসিন রোডের বাড়ি থেকে ৮০ পিচ ইয়াবা ও তিনটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় খুলনা থানায় চাঁদাবাজি ও মাদক আইনে পৃথক মামলা হয়েছে।
এদিকে, পুলিশ এ ঘটনায় কালিবাড়ী রোডের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শম্ভু নামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে আটক করলে বিক্ষোভ শুরু করে অন্য ব্যবসায়ীরা। প্রতারকরা সাত ভরি সোনা ওই দোকানে বিক্রি করেছিল বলে পুলিশকে জানায়।
প্রতারণার শিকার মাজেদুল খান বলেন, দু’ মাস ধরে মেয়েটি তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। ফেসবুকে পরিচয়ের পর মোবাইলে কথা হয়। প্রথম তারা খুলনা সুন্দরবন কলেজে সাক্ষাৎ করেন। তারপর মেয়েটির আরো দু’ বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে মেয়েটির সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে চাঁদার দাবিতে তাকে হুমকি দিতে থাকে।