সিসি ডেস্ক: চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়কর বিবরণীর সাথে বাড়িভাড়ার আয় সংক্রান্ত ব্যাংক লেনদেন জমা দেয়ার নির্দেশনা জারি হয়েছে আগেই। কিন্তু বেশিরভাগ করদাতা কর বিবরণীর সঙ্গে জমা দিচ্ছে না তাদের বাড়িভাড়ার ব্যাংক লেনদেনের তথ্য।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাব মাঠে এনবিআর কর্তৃক আয়োজিত আয়কর মেলা ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়।
এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকার বেশি বাড়িভাড়া পেলে তা ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করতে হবে। ১২ মাসের ভাড়ার লেনদেন দিতে হবে। আইন না মানলে বাড়িভাড়া বাবদ আয়ের ৫০ শতাংশ বা ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা হারে জরিমানা করা হবে।
কিন্তু এ সত্বেও আয়কর মেলায় বিভিন্ন কর অঞ্চলের আয়কর রিটার্ন দাখিল বুথ ও আয়কর বিবরণীতে বাড়িভাড়ার আয় সংক্রান্ত ব্যাংক লেনদেন জমা না দেয়ার বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও করদাতারা একে অপরকে দোষ চাপাচ্ছেন।
মেলায় কর অঞ্চল-২ এর সহকারী কর কমিশনার সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘গতকাল যেসব কর বিবরণী জমা হয়েছে তার একটাতেও ব্যাংক লেনদেন জমার কাগজপত্র দেয়নি। বেশিরভাগ এ বিষয়ে করদাতাই জানে না বলে অভিযোগ করছেন। এনবিআরের নির্দেশনানুযায়ী এসব দেখার প্রয়োজন নেই, শুধু জমা নিতে হবে। আর আমরা সেই নির্দেশনা পালন করছি।’
তবে কর অঞ্চল-৪ এর সহকারী কর কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘দু-একজন চোখে পড়েছে। অনেককে আমরা মুখে বলার পর বলেছে, জানে না। কর বিবরণী যাচাই হলে বেরিয়ে আসবে কারা ভাড়ার ব্যাংক লেনদেনের তথ্য জমা দেয়নি। তারা শাস্তির আওতায় আসবে। বেশিরভাগ স্বনির্ধারণী কর বিবরণী জমা হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে এবার সাড়াও ভালো। তবে বাড়িভাড়ার কোনো তথ্য পাইনি।’
এ বিষয়ে দায়িত্বরত একাধিক কর্মকর্তারা জানান, চলতি করবর্ষে যারা আয়কর বিবরণীর সাথে ব্যাংক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য দিচ্ছে না তারা শাস্তির আওতায় আসবে। সারাদেশের সব বাড়ি মালিকের তথ্য এনবিআরের কাছে রয়েছে। কর বিবরণী যাচাইয়ের সময় তা বেরিয়ে আসবে। অনেক বাড়ির মালিক বিষয়টি জানেন না। অনেকে জেনেও দিচ্ছেন না। তবে উভয়ই কঠোর শাস্তির আওতায় আসবে।
যদিও মিরপুর থেকে আসা ইসমাইল নামে একজন ঝুট ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, ‘মিরপুর এলাকায় আমার ৫ তলা বাড়ি রয়েছে। আমি তো ম্যানুয়ালি ভাড়া আদায় করি। ভাড়া ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন ও এর তথ্য কর বিবরণীর সাথে দাখিল করতে হবে এটা মেলায় এসে জেনেছি। কর বিভাগ থেকে আগে জানানো হয়নি। তাই বিষয়টি আরো প্রচার করা প্রয়োজন ছিল বলে আমি মনে করি। এখন যদি বিবরণী যাচাই করে শাস্তি দেয়া হয় তাহলে জুলুম করা হবে।’
কর অঞ্চল-৮ এর আবদুর রাজ্জাক জানান, শাহজাহানপুরে আমার চার ভাইয়ের যৌথ বাড়ি রয়েছে। গত কয়েকবছর ধরে বাড়িভাড়ার কোনো তথ্য বিবরণীতে দেইনি। গত তিনদিন আগে জানতে পারলাম ভাড়ার ব্যাংক লেনদেন দিতে হবে। বিবরণী দেয়ার সাথে সাথে জমা নিয়ে নেয়া হচ্ছে। সারা বছর না হলেও অন্তত মেলার এক মাস আগ থেকে এ বিষয়ে প্রচারণা চালানো উচিৎ ছিল।’
বাংলামেইল