এম কে আনোয়ার/মোস্তফা জামান: প্রতিহিংসার মুখে এখন বিনোদন কেন্দ্র ‘আনন্দ নগর’। দর্শনার্থীদের বিনোদন কেন্দ্র থেকে বিমুখ করতে আদাজল খেয়ে উঠেপড়ে লেগেছে একটি চক্র। প্রকাশ্য দিবালোকে ওই চক্রটি পুলিশ দিয়ে দর্শনার্থীদের অমূলক হয়রানী করছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে।
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার খালাশপীরে প্রায় ৯০ একর জমির উপর ২০০৮ সালে গড়ে উঠে বিনোদন কেন্দ্রটি। লোকালয়ে নিরিবিলি পরিবেশে গড়ে উঠা বিনোদন কেন্দ্রটি ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে অল্পদিনের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আর দু-একটি বিনোদন কেন্দ্রের মতো আকর্ষনীয় ওঠে। দেশের নানা অঞ্চল থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটে আসে আনন্দ নগরে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বনভোজনে মিলিত হয় এখানে এসে। বিনোদন কেন্দ্রের এমন উন্নতিতে একটি চক্র বিনোদন কেন্দ্রের সুনাম ক্ষুন্ন করতে মিথ্যা ও হয়রানীমূলক অভিযোগ তুলে বারবার পুলিশী অভিযান করছে। যার ফলে দর্শনার্থীরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ অভিযোগ তুলেছে।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে আনন্দ নগরে গিয়ে দেখা যায়, হাতেগোনা কয়েকজন দর্শনার্থী মাত্র। কথা হয় রংপুর শহর থেকে আসা এক দম্পতির সাথে। তারা জানান, মটরসাইকেল যোগে মাসে অন্তত: দুবার এখানে বেড়াতে আসেন। এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, রংপুরের অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রের চেয়ে এখানকার পরিবেশ অনেক ভালো।
বিনোদন কেন্দ্র আনন্দ নগরের সহকারী ম্যানেজার আনোয়ারুল হক বাটুল জানান, কর্তৃপক্ষ ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য ব্যবস্থা করেছে বিভিন্ন রাইডস, প্লাটেরিয়াম, নৌযান ভ্রমণ, প্যাডেল বোড, ক্যাবেল কার, বরফের দেশ, হেলিকপ্টার, আদিকালের আজব গুহা, টাইটানিক ভাসমান হোটেলসহ আরও অনেক কিছু। রয়েছে পিকনিক স্পট, ভিআইপি কটেজ, আবাসন, কনফারেন্স রুম, কমিউনিটি সেন্টার। যা দর্শনার্থীদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে রয়েছে এসবের ভাড়ার মূল্য।
আনন্দ নগরের ম্যানেজার বকুল মিয়া জানান, এ বিনোদন কেন্দ্রকে ঘিরে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে এ এলাকার দুই শতাধিক মানুষের। প্রশ্নের জবাবে জানান, এখানে স্থায়ী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ৪৫ জন কর্মচারী। মৌসুমে এর সাথে অস্থায়ী হিসেবে যুক্ত হয় আরো ২০-২৫ জন। বিনোদন কেন্দ্রের মধ্যে স্থায়ী দোকান রয়েছে ৪৫টি এবং মৌসুমী ফেরিওয়ালার সংখা অর্ধ শতাধিক। এছাড়াও বিনোদন কেন্দ্রের মূল গেটের সাথে গড়ে উঠেছে একটি বাজার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতি বছর বিদ্যুত, কাষ্টম ভ্যাট ও ভূমি কর দেয়া হয় প্রায় ৫ লাখ টাকা।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, সরকারের দেয়া নিয়মনীতি অনুযায়ী আনন্দ নগর পরিচালিত হয়ে আসছে। তবুও একটি চক্র প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বারবার পুলিশী হয়রানী করছে। যা দর্শনার্থীদের মাঝে বিরুপ প্রভাব পরছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি এখন লোকসানের মুখে পরেছে।
মদনখালী ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মঞ্জু জানান, আমার ইউনিয়নে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় আমি এবং এলাকাবাসী গর্বিত। যেখানে এক সময় সহস্রাধিক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। বিনোদন কেন্দ্রকে নস্যাত করার যেকোন চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে বদ্ধ পরিকর তিনি।
আনন্দ নগরের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সংসদ সদস্য ও পীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মন্ডল জানান, বিনোদন কেন্দ্রটির বিরুদ্ধে একটি চক্র উঠেপড়ে লেগেছে। যেখানে দু’শতাধিক পরিবারের রুজি-রোজগারের পথ সৃষ্টি হয়েছে- সেখানে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের রাজনীতি করা উচিত হবে না।
কথা