• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

ঢাকায় বিচারকের বাসায় কাজের মেয়েকে নির্যাতন

163844_1সিসি ডেস্ক: ঢাকায় এক বিচারকের বাসায় দেড় বছর আটক রেখে ১২ বছর বয়সী গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশুটির নাম খাদিজা। আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকায় জাতীয় আইন সহায়তা প্রদান সংস্থার উপ-পরিচালক (প্রশাসন) রকিবুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শামীমা ইসলামের বাসায় রেখে শিশুটিকে পনের মাস ধরে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ক্ষতচিহ্ন নিয়ে মাগুরায় নিজের বাড়িতে পালিয়ে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা শনিবার দুপুরে শিশুটিকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুর বাড়ি শালিখা উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামে বাবার নাম সলেমান সর্দার ও মা ডালিম বেগম। চিকিৎসক শিশুর শরীরে একাধিক ক্ষত চিহ্নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিশুটির মা ডালিম বেগম জানান, অভাব-অনটনের কারণে দেড় বছর আগে গ্রাম্য প্রতিবেশী আবুল বাশারের মাধ্যমে ঢাকায় বিচারক রকিবুল ইসলামের বাসায় মাসিক এক হাজার টাকা চুক্তিতে কাজ করতে পাঠান। তার পর থেকে মেয়ের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। রকিবুল ও তা স্ত্রীর মোবাইলে ফোন করলেও তারা কখনও ফোন ধরতেন না। প্রতিবেশী আবুল বাশারের কাছে মেয়ের খোঁজ নিতে গেলে তিনি শুধু বলতেন, ‘খাদিজা ভালো আছ।’ এভাবে ১৫ মাস যোগাযোগহীন অবস্থায় থাকার পর খাদিজা অসুস্থ অবস্থায় পালিয়ে শনিবার ভোরে বাড়ি ফেরে।

খাদিজা সাংবাদিকদের জানায়, কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকে উত্তরায় রকিবুলের ও বসুন্ধরায় তার শ্বশুরের বাসায় তাকে রান্না ছাড়া সব ধরনের কাজ করতে হত। রকিবুল ও তার স্ত্রী নানা অজুহাতে প্রতিদিন তাকে চড়, থাপ্পড়, শরীরে গরম খুনতির ছ্যাঁকা ও গরম পানি ঢেলে নির্যাতন করত। দিনে একবেলা খেতে দিত, তা-ও পচা-বাসি খাবার। অসুস্থ হলে তার চিকিৎসা করতো না। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরার বাসার গার্ডকে ১০ টাকা দিয়ে একটি পাউরুটি কেনার জন্য পাঠিয়ে কৌশলে আমি পালিয়ে আসি। প্রায় দুই মাস আগে রকিবুলের স্ত্রী শামীমা ইসলাম বটি ও ছুরি দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ করে হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতচিহ্ন দেখিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি। পরে সাভার হয়ে শুক্রবার রাতে পুলিশের সহায়তা নিয়ে বাসে করে শনিবার ভোরে সে বাড়ি পৌঁছে।

মাগুরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মোহাইমানুল হক বলেন, খাদিজার শরীরের ওল্ড ইনজুরি আছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা দেখে তার শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে প্রতিবেদন দেবেন।

সদর থানার এসআই তৌহিদুর রহমান বলেন, দুপুরে মেয়েটি (খাদিজা) হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় তিনি রকিবুল ইসলামের সঙ্গে ফোন করে ঘটনা জানতে চান। তিনি (রকিবুল) বলেন, আমি ঢাকার বাইরে আছি। শুনেছি বাসার কাজের মেয়েটা পালিয়েছে। বাসার ঘটনার বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারছি না। পরে বারবার যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সদর থানার ওসি মুন্সি আছাদুজ্জামান বলেন, শিশুটির শরীরের নতুন কোনো নির্যাতনের চিহ্ন নেই; তবে পুরাতন দাগ রয়েছে। নির্যাতনের বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রকিবুল এর আগে সিলেটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক ছিলেন। তখন তিনি সিলেট জেলা আইন সহায়তা কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রকিবুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শামীমা ইসলাম। রকিবুল ইসলামের বাড়িও মাগুরায়; মহম্মদপুর উপজেলার বরুলিয়া গ্রামে।

উৎসঃ   কালেরকণ্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ