চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: খাদ্য শষ্যের ভান্ডার হিসাবে খ্যাত দিনাজপুরের ১৩ উপজেলার মধ্যে চিরিরবন্দর অন্যতম। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের দিগন্তজুড়ে ফসলের মাঠ। চারদিকে সবুজের সমারোহ ঠিক যেন ‘ধনে ধানে পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা’। রোপা আমন ক্ষেত যেন তারুন্যের হাসি হাসছে। কৃষকদের মুখেও এক চিলতে হাসি। আর কিছু দিন পরেই তাদের ঘরে উঁকি দেবে সোনালি স্বপ্ন। উপজেলা কৃষি বিভাগের মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন আগাম জাতের ধান চাষ করে এ সাফল্যের কথা জানালেন উপজেলার ফতেজংপুর গ্রামের কৃষকেরা। চারদিকে সবুজের সমারোহ দেখে সন্তুষ্ট কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। চিরিরবন্দর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখাগেছে, দিগন্ত জুড়ে মাঠে ধান গাছের বুক চিরে বেড়িয়ে আসতে চাইছে কৃষকের স্বপ্ন। কৃষকেরা জানালেন, উপজেলা কৃষি বিভাগের কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার মোহন্ত , কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও উপ-সহকারি কর্মকর্তারা আমাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে আদর্শ কৃষকে রুপান্তরে সহায়তা করেছে। উপজেলার দূর্গা ডাঙ্গা গ্রামের কৃষক অম্বিকা চরন, হরিশ্চন্দ্র পুর গ্রামের মাহাতাব, দক্ষিণ নশরতপুর গ্রামের হিসি চন্দ্র জানান, আমরা পোকা দমনের জন্য আলোর ফাঁদ, পার্চিং ও ইঁদুর নিধনের ফাঁদসহ ব্যবহার করছি আধুনিক পদ্ধতি। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চিরিরবন্দর উপজেলায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৬১ হেক্টর জমি। বিগত সময় প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে এবার কৃষক কোমর বেঁধে নেমেছে। শেষ পর্যন্ত কৃষক হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সব জমিতে বোরো আবাদ করায় লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সরজমিনে চিরিরবন্দর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখাগেছে, এ বছর রোগবালাই তেমন নেই। ধানের বর্তমান অবস্থায় বাম্পার ফলন আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।