সিসি ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও সরকারের দিক থেকে প্রচন্ড চাপে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। পরিকল্পনা মাফিক কোন কিছুই করতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে তারা কোন ধরনের তাড়াহুড়া করতে চাইছে না। ধীরে চলা নীতি অনুসরণ করছে। পরিকল্পিতভাবেই এগুতে চাইছে। যাতে করে সরকার তাদের আমিরের ও দলের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে থাকলেও তাদের কোন ক্ষতি না হয়। দল ঠিক থাকে। বিকল্প নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব দিলে দলের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারে ও মাঠের নেতা কর্মীদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখা সম্ভব হয়।
সূত্র জানায়, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের কয়েকজনের মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার, তিন নেতার ফাঁিসর রায় কার্যকর করা, বর্তমান আমিরের বিচার কাজ আপিল বিভাগে চলছে, এরপরই আপিল বিভাগে নিস্পত্তি হবে মীর কাশেম আলী, আব্দুস সোবহানের বিচারের কাজ। এই তিন নেতার বিচার ছাড়াও সরকার মার্চের মধ্যে জামায়াতেরও বিচার করতে চাইছে। জামায়াত নিষিদ্ধ করে বন্ধ করে দিতে চাইছে তাদের সকল কর্মকান্ড। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদেরকে দমন করার জন্য সর্ব শক্তি নিয়োগ করেছে। এই অবস্থায় জামায়াত সরকারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে কোন কঠিন কর্মসূচী দিতে চাইছে না। প্রতিবাদে বড় ধরনের কোন ঘটনাও ঘটাতে চাইছে না। লাগাতার হরতাল ও ধর্মঘটের ডাক দিতে চাইছে না। কোন সহিংসতার ঘটনাও ঘটাতে চাইছে না। তারা ধীরে চলা নীতি অনুসরণ করছে। যোগাযোগ রক্ষা করছে আন্তর্জাতিক মহলে যারা তাদের ঘনিষ্ট রয়েছে তাদের সঙ্গে। তাদেরকে দিয়ে সরকারের উপর চাপ তৈরি করানোর চেষ্টা করছে। এই জন্য আপাতত জামায়াত কোন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না।
জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মুহম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পর ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে দলের আমিরের বিচার কাজ সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী এটর্নী জেনারেল। সূত্র জানায়,এই অবস্থায় দলের গুরুত্বপূর্র্ণ দুই নেতার অনপুস্থিতির প্রেক্ষিতে তাদের করণীয় সম্পর্কে তারা সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা কমিটির বৈঠক করে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে। ওই বৈঠক কবে হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। আমিরের বিচারের পর সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ভারপ্রাপ্ত আমির ও সেক্রেটারী জেনারেল দিয়ে তাদের কাজ চালিয়ে নেওয়ার বিধান থাকায় তারা আপাতত তাদের দিয়েই কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। নিজমীর আপিল মামলার রায়ের পর তারা ওই রায় দেখে পরবর্তী করনীয় ঠিক করবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিএনপি -জামায়াত দেশে অস্থির পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চাইছেন। জামায়াতের কর্মীরাই এখন বিভিন্ন নামে বেনামে দেশে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে বলেও জানান। তিনি আরো বলেন, যত জঙ্গী সংগঠনের নামই আসুক না কেন এর পেছনে জামায়াত ও শিবির রয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, দেশে সাম্প্রতিক কালে যে সব ঘটনা ঘটেছে এর পেছনে জামায়াত শিবির- বিএনপির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তারা নানাভাবে সরকারের ইমেজ নষ্ট করার ও সরকারের উপর চাপ তৈরি করতে চাইছে বলেও মনে করছেন। সেই হিসাবে তারা ব্যবস্থাও নিচ্ছেন।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আগামী মার্চের আগেই জামায়াতের বিচার শুরু করা হবে। এই জন্য আইনও সংশোধন করার সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরের আগেও এই আইনের সংশোধনী পাস হতে পারে। তিনি বলেন, জামায়াতের রাজনীতি থাকবে না। কারণ মানবতাবিরোধী অপরাধে সংগঠনের বিচার করা হবে। সেটা হলে জামায়াত নিষিদ্ধ হবেই, সেই সঙ্গে আরো কঠোর শাস্তির বিধান করা হচ্ছে। জামায়াতের ব্যাপারে তদন্ত রিপোর্টও জমা হয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ হলে জামায়াতের নেতা কর্মীরা নতুন করে দ্রুতই সংগঠিত হতে পারবে না। বিএনপি তাদের সঙ্গে যদি একীভূত করতে চায় সেটা বিএনপির ব্যাপার। তাদের সংগঠনের বিচার করা হবে এটা নিশ্চিত।
এটর্নী জেনারেল বলেছেন, ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আপিল মামলার বিচার কাজ শেষ হবে। সরকারের এই কঠোর মনোভাব জানার পর জামায়াত নতুন করে তাদের আগামী দিনের পরিকল্পনা করছে। এতোদিন তারা দলের আমীর ও সেক্রেটারী জেনারেলের বিচারের জন্য অপেক্ষা করছিল। এখন সরকারের কঠোর মনোভাবের কারণে নতুন করে কি করবেন তাও আলোচনা করছেন। দলের আমির ও সেক্রেটারী জেনারেল কাকে করা হবে সেই ব্যাপারেও ভাবছে। এই জন্য তারা নিজামীর আপিল মামলার রায়ের জন্য অপেক্ষা করবে। পাশাপাশি আইনীভাবে তারা কি ধরনের সুবিধা পেতে পারে সেই সব বিষয়গুলোও বিবেচনা করছে। এছাড়াও অন্যান্য যেসব নেতারা কারাগারে রয়েছেন তাদের ব্যাপারেও কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ও কাকে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে সেই ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।