সিসি নিউজ: সম্প্রচার কমিশন এবং অনলাইন নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত অনলাইন পত্রিকার নিবন্ধন কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রস্তাব করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকের কয়েকজন সম্পাদক। একই সঙ্গে তাঁরা ছাপা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের জন্য আলাদা নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই বলেও মত দিয়েছেন।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় তাঁরা এ মত দেন। সভায় ‘জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা, ২০১৫’-এর খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়।
সম্পাদকদের মত শোনার পর তথ্যসচিব মরতুজা আহমেদ অনলাইন পত্রিকার নিবন্ধন কার্যক্রমের সময় বাড়ানো বা বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখতে সভায় উপস্থিত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা তছির আহাম্মদকে পরামর্শ দেন। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে অনলাইন পত্রিকা ও ছাপা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের নিবন্ধন করতে বলেছে তথ্য অধিদপ্তর।
সভায় হাসানুল হক ইনু বলেন, নীতিমালার খসড়া নিয়ে এটি প্রাথমিক আলোচনা। মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে অংশীজনদের সঙ্গে এটি নিয়ে আরও আলোচনা হবে। দেশে সমন্বিত সাইবার আইন থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাইবার স্পেসের নিরাপত্তার জন্য এটি প্রয়োজন।
সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘শৃঙ্খলার নামে আমরা শৃঙ্খলিত হতে চাই না।’ তাঁর মতে, নীতিমালা করার মধ্যে গৌরবের কিছু নেই। দায়বদ্ধতা থাকলে নীতির দরকার হয় না।
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, আগে সম্প্রচার কমিশন ও অনলাইন নীতিমালা করেন, তারপর নিবন্ধনের উদ্যোগ নেন। তাঁর মতে, নীতিমালা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণের আবহ লক্ষ করা যায়। তিনি মত দেন, ‘অনলাইন পত্রিকার নিবন্ধনে আমরা যদি প্রথম হতে চাই, তাহলে বলার কিছু নেই। আর সেটি যদি লক্ষ্য না হয় তাহলে তাড়াহুড়া না করে আরও আলোচনা-পর্যালোচনা করেন।’ তিনি আরও বলেন, যত আইন বা নীতি করা হোক না কেন, শেষ বিচারে পাঠক, দর্শক ও শ্রোতা এবং বিজ্ঞাপন বা আয় গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ বা টিকে থাকার বিষয়টি নির্ধারণ করবে।
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ছাপা পত্রিকায় কোনো ভুল হলে এর দায়দায়িত্ব যেমন ওই পত্রিকার প্রকাশক বা সম্পাদকের, তেমনি ওই পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের যেকোনো ভুলের দায়দায়িত্বও তাঁদের। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ছাপা পত্রিকা যদি নতুনভাবে নিবন্ধন করে, তাহলে সেগুলোর দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ববোধ কি আগের চেয়ে বাড়বে? তবে যেসব অনলাইন পত্রিকা কোথাও নিবন্ধিত নয়, তাদের জন্য নিবন্ধন হতে পারে বলেও তিনি মত দেন। তাঁর মনে হয়েছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নয়, এই নীতিমালা নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে করা।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যেকোনো খবর অনলাইনে প্রকাশিত হলে তা এই নীতিমালায় পড়বে, যা নিয়ে বিভ্রান্তির যথেষ্ট সুযোগ থাকবে। তিনি ধর্মীয় অনুভূতি, সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা, দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো আরও সুস্পষ্ট করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এটা না করা হলে বহুমাত্রিক জটিলতা সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহ আলমগীর বলেন, ছাপাখানা আইনে পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ কভার করে না। তাই ওই আইনটি সংশোধন করতে হবে, অথবা আইনে বিষয়টি উল্লেখ থাকতে হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমরা লাগামহীন অনলাইন গণমাধ্যমের মধ্যে বসবাস করছি। এই প্রেক্ষাপটে আমরা একটি খসড়া দাঁড় করিয়েছি। আলোচনা ও পর্যালোচনায় এর ত্রুটি দূর হবে।’
সভায় অনলাইন পত্রিকাগুলোর উদ্যোক্তা ও সমিতির নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন এ কে এম শরীফুল ইসলাম খান, মো. শফিউল আজম, শরিফ মোহাম্মদ মাসুম, জয়ন্ত আচার্য, শামসুল আলম স্বপন, মশিউর রহমান প্রমুখ।
উৎস: প্রথম আলো