• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

৫০ পৌরসভায় আ. লীগকে ভোগাবে বিদ্রোহীরা

নির্বাচনঢাকা: দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি পাত্তা না দিয়ে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের লড়াইয়ে রয়ে গেছেন আওয়ামী লীগ নেতা এনায়েতুর রহমান আকন্দ স্বপন। কালাই পৌরসভায় নৌকা প্রতীক না পেয়ে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধেই প্রার্থী হয়েছেন আরেক আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদুল রহমান কাজল।

একইভাবে নড়াইল পৌরসভায় সোহরাব হোসেন বিশ্বাস ও সরদার আলমগীর হোসেন, কালিয়া পৌরসভায় বিএম ইমদাদুল হক টুলু, ফকির মুশফিকুর রহমান লিটন, শেখ লায়েক হোসেন এবং সোহেলী পারভীন নিরী আওয়ামী লীগ মনোনীন প্রার্থীর বিপরীতে নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়ে গেছেন।

বরিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন বেশ কিছু পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলেও অন্তত ৫০টি পৌরসভায় রয়ে গেছে বিদ্রোহী প্রার্থী। কোথাও বিদ্রোহীর সংখ্যা একজন, কোথাও দুইজন, কোথাও বা তিন অথবা চারজন রয়ে গেছেন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে।

৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগের দিন ২৩৫ পৌরসভায় দলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগ। প্রায় প্রতিটি পৌরসভায় দলের পক্ষ থেকে একাধিক নেতা মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেন। এদের মধ্যে যারা দলের সমর্থন পাননি, তাদের কেউ কেউ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও অন্তত একশটি পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন।

যাচাই বাছাইয়ে বিদ্রোহীদের একাংশের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এরপর নির্বাচনে অংশ নিতে যোগ্য বিদ্রোহীদেরকে ভোট থেকে সরে দাঁড়াতে নির্দেশ দেয় আওয়ামী লীগ। নির্দেশ না মানলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে-এমন হুঁিশয়ারিও দেয়া হয়। কিন্তু এই সতর্কবার্তা গায়ে মাখেননি কেউ কেউ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন কারিবুল হক রাজিন। একইভাবে পাবনা পৌরসভায় তোফাজ্জল হোসেন তোফা, সাঁথিয়ায় নফিজ উদ্দিন, চাটমোহরে মির্জা রেজাউল করিম দুলাল, ভাঙ্গুড়ায় আজাদ খান, সুজানগরে তোফাজ্জল হোসেন তোফা ও আফসার আলী, ফরিদপুরে (পাবনার একটি পৌরসভা) জাহাঙ্গীর আলম ও আসাদুজ্জামান মিয়া, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আবদুর রহিম, বাগেরহাট পৌরসভায় মীনা হাসিবুল হাসান শিপন, মেহেরপুরের গাংনীতে আশরাফুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মিরপুরে আতাহার আলী, কুমারখালিতে জাকারিয়া খান, খোকসায় আলম মাসুম মোর্শেদ শান্ত ও আলাউদ্দিন পিন্টু, গোপালঞ্জে মুশফিকুর রহমান লিটন, যশোরে এসএম কামাারুজ্জামান চুন্নু, চৌগাছায় এসএম সাইফুর রহমান বাবুল, মনিরামপুরে জিএম মজিদ, অভয়নগরে ফারুক হোসেন, সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আরাফাত হোসেন, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভায় জাহাঙ্গীর আলম, টাঙ্গাইলের কালিহাত তে হুমায়ুন খালিদ, গোপালপুরে বেলায়েত হোসেন, রাজশাহীর মু-মালায় আহসানুল হক স্বপন, পুঠিয়ায় জিএম হীরা বাচ্চু, নওহাটা পৌরসভায় হাফিজুর রহমান হাফিজ, লালমনিরহাটে এসএম ওয়াহেদুল হাসান পারভেজ, পাটগ্রামে ওয়াজেদুল ইসলাম শাহিন, নীলফামারীর জলঢাকায় ইলিয়াছ হোসেন বাবলু, কুড়িগ্রামের উলিপুরে সাজেদুল ইসলাম, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দেবাশীষ সাহা, নারানয়গঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সাদেকুর রহমান ভুইয়া, হবিগঞ্জে মিজানুর রহমান মিজান, শায়েস্তাগঞ্জে বিদ্রোহী আতাউর রহমান মাসুম, মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিদ্রোহী আবদুল নূর, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দেলোয়ার হোসেন রিপন, ফুলপুরে শাহজাহান আলী, গৌরীপুরে শফিকুল ইসলাম ছবি ও আবু কাউসার চৌধুরী, ত্রিশালে এ বি এম আনিসুজ্জামান, মুক্তাগাছায় দেবাশীষ ঘোষ বাপ্পী, বরগুনায় শাহাদৎ হোসেন ও শাহাজাহান, চট্টগ্রামের রাউজানে সাইফুল ইসলাম রানা, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে খাজা মঈন উদ্দিন চিশতী রয়ে গেছেন বিদ্রোহী হিসেবে।

এ ছাড়াও আরও বেশ কিছু পৌরসভায় দলীয় প্রার্থীর ভোট কাটবেন বিদ্রোহীরা। আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে বিদ্রোহীদেরকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করতে হলে সাময়িক বহিষ্কার করে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ ব্যাখ্যা করে নোটিশ করা হয়। এরপর জবাব দিলে চূড়ান্ত বহিষ্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বড় দল হিসেবে বরাবরই আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে নির্বাচন এলেই মনোনয়ন নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। আর বিদ্রোহীরা কোথাও কোথাও জিতলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দলের পরাজয়ের কারণ হন। গত উপজেলা নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থীরা অন্তত ৫০টি উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ হয়েছেন।

তবে এবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, পৌর নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ায় বিদ্রোহীরা তেমন প্রভাব ফেলতে পারবে না। কারণ, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা নৌকা প্রতীক রেখে অন্য কোন মার্কায় ভোট দেবেন বলে মনে করেন না কেন্দ্রীয় নেতারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ