• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

দিনাজপুর পৌরসভার নির্বাচনী প্রচারনা জমে উঠেছে

Pic-01 Anarul Islamমাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর : দিনাজপুর সদর পৌরসভা নির্বাচন জমে উঠেছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির ৩ প্রার্থীসহ ৫ মেয়র প্রার্থীসহ ৭৯ প্রার্থী এখন নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন। দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো পৌর এলাকা। সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরতি মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও পিছিয়ে নেই। তারাও সমানতালে প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন।
এদিকে পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে পৌরসভার রাস্তা-ঘাট, প্রতিটি অলি-গলি ও পাড়া-মহল্লার প্রতিটি মোড়। যেদিকেই চোখ যায় সেদিকেই পোস্টার আর পোস্টার। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ছবি সম্বলিত পোস্টার শোভা পাচ্ছে শহরের সর্বত্র।
দিনাজপুর পৌরসভা ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের সবচেয়ে প্রাচীনতম ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। যার আয়তন ২৪ দশমিক ২০ বর্গ কিলোমিটার। ২০১১ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭২৭ হলেও বর্তমানে এই পৌরসভায় বসবাস করে ২ লাখের বেশী মানুষ। বর্তমানে পৌর এলাকার মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯০ জন। পুরুষের তুলনায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা বেশী। পুরুষ ভোটার ৫৭ হাজার ৯৩ জন ও মহিলা ভোটার ৫৯ হাজার ৬৯৭ জন এবং ভোট কেন্দ্র ৪৯টি।Pic-02 Syed  Jahangir Alam
গত ৩ ডিসেম্বর সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. মাহমুদ হাসানের কাছে মেয়র পদে ৫ জন এবং ১২টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৬২ জন ও সংরতি মহিলা কাউন্সিলর পদে ২১ জন প্রার্থী মিলে ৮৮ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই শেষে ব্যাংক ঋন থাকায় এক মহিলা কাউন্সিররের প্রার্থিতা বাতিল করেন। ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে এক মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ৮ প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ফলে মেয়র পদে ৫ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৯ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫৫ প্রার্থী মিলে প্রতিদ্বন্দ্বি মোট প্রার্থী সংখ্যা দাড়ায় ৭৯ জনে।
মেয়র পদে ৫ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আনায়ারুল ইসলাম নৌকা প্রতীকে, বিএনপির প্রার্থী বর্তমান নির্বাচিত মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ধানের শীষ প্রতীকে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুল মোতালেব লাঙ্গল প্রতীকে এবং স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী আলতাফ উদ্দীন ডাবগাছ প্রতিকে ও মো. ফয়সাল হাবিব সুমন (বর্তমান কাউন্সিলর) মোবাইল ফোন প্রতিকে নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের চোখে ঘুম নেই। দিনরাত পৌর এলাকার পাড়া-মহল্লা ঘুরে গণসংযোগ করছেন।  এ নির্বাচনে মোট ৭৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১২টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৫জন, ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৮জন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৩জন, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৪জন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৫জন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৪জন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৩জন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৮জন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৩জন, ১০ নম্বর ওয়ার্ড ৫ জন, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ২ এবং সংরক্ষিত ৪টি ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
Pic-03 Japa Motaleb Picদিনাজপুর পৌরসভায় মোট ভোট কেন্দ্র ৪৯টি। এ নির্বাচনকে  কেন্দ্র করে পৌর এলাকার ১২ ওয়ার্ড এখন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা প্রচারণায় নেমেছেন। সব প্রার্থীর পক্ষে দল বেধে মহিলা কর্মীরা সকাল-বিকাল বাড়ী বাড়ী লিফলেট বিলি করে বেড়াচ্ছোন। পাশাপাশি বেলা ২টা থে রাত ৮টা পর্যন্ত চলছে মাইক দিয়ে প্রচারনা। সকাল-সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে ভোটারদের চা দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে। তবে মেয়র পদে বড় দু’দল আওয়মী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে নিয়েই এলাকা সবচেয়ে বেশি সরগরম।
দিনাজপুর পৌরসভায় মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় মূল লড়াই হবে বড় দু’দলের প্রার্থী নৌকা এবং ধানের শীষের প্রার্থীর মধ্যে। ইতোমধ্যে এলাকার পাড়া-মহল্লায় বড় দু’দলের সমর্থকেরা বিভিন্নভাগে বিভক্ত হয়ে নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। অপর দিকে জাতীয় পার্টি প্রার্থীর সমর্থকেরাও লাঙ্গল প্রতীকে এবং স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী ভোট প্রার্থনায় নেমে পড়েছেন। মেয়র পদে সব প্রার্থীই প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ ও পথসভা করে ভোট প্রার্থনা করছেন। পাশাপাশি মহিলা কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী তাদের সমর্থকেরা প্রতিদিন পাড়া-মহল্লায় বাড়ী বাড়ী ভোট চেয়ে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়রুল ইসলাম বলেন, আমি মেয়র নির্বাচিত হলে পৌর এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করব। দিনাজপুর পৌরসভাকে একটি মডেল ও আধুনিক পৌরসভায় রূপান্তরিত করব। দিনাজপুরকে সুপরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সুবজ দিনাজপুর, ওয়াফাইজোন, শিক্ষা ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা, আবর্জনামুক্ত শহর, ফরমালিনমুক্ত বাজার, গনপরিবহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে কাজ করবো। পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে প্রতিবছর উন্নয়ন প্রতিবেদন গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে।
Pic-04 Altaf Uddinআনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিগত পাঁচ বছরে দিনাজপুর পৌরসভার তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। শহরের বেশিরভাগ রাস্তা যান-বাহন চলাচলের উপযোগী নয়। রাস্তার উন্নয়ন, শিশুপার্কের উন্নয়নসহ পৌরসভায় অনেক কিছু করার সুযোগ ছিল যা বিগত ৫ বছরে হয়নি।
আনোয়ারুল বলেন, যদি জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করে, তাহলে আগামী ৫ বছরে পৌরসভার অসমাপ্ত কাজগুলোর সমাধান করব। বর্তমানে সরকারে আছে আওয়ামী লীগ। পৌর প্রতিনিধি যদি সরকার দলীয় হয় তাহলে উন্নয়ন অনেক সহজ হবে।
বর্তমান মেয়র ও বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিগত ৫ বছর যাবৎ আমি এ দায়িত্ব পালিন করেছি। পৌরবআসি আমাকে ভোট দিয়ে পুনরায় নির্বাচিত করলে আমার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করব। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি জিতবো ইনশাআল্লাহ। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না এ ব্যাপারে আমি শঙ্কায় রয়েছি। একটি মহল আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে দিনাজপুর থেকে প্রকাশিত “সাপ্তাহিক আওয়ামী কন্ঠ” এর ১৭ ডিসেম্বর সংখ্যায় “জনমত জরিপে বিগত ৪০ বছরে দিনাজপুর পৌরসভার ইতিহাসে মেয়র হিসেবে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পত্রিকাটি লিখেছে “বিগত ৫ বছরে একজন কেউ বলেনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে পৌর মেয়র থাকাকালে তিনি একজন ব্যক্তির সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন।”
জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল মোতালেব বলেন, পৌরবাসী আমাকে বিজয়ী করলে পৌরসভার রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, ব্রীজ-কালভার্ড, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, যানজট নিরসনসহ যা যা দরকার তার সবই করবো। পৌরসভাকে একটি আদর্শ পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবো। তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসেইন মুহম্মদ এরশাদ সারা দেশে উন্নয়নের সূচনা করেছিল। তার আদর্শ অনুসরন করে আমি দিনাজপুর পৌরসভার উন্নয়নে কাজ করবো। বিজয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী বলে দাবী করেন।
Pic-05 Faisal Habib Sumonস্বতন্ত্র প্রার্থী ও পৌরসভার ৩ বারের কাউন্সিলর এবং ২ বারের প্যানেল মেয়র মো. আলতাফ উদ্দীন বলেন, পৌরসভা হলো জনগণের। পৌর পরিষদ দল নিরপেক্ষ ব্যক্তির নেতৃত্বে থাকা উচিত, যাতে সব দলের মানুষ এখানে নির্বিঘেœ যেতে পারেন। এ কারনে তিনি পৌরবাসীকে দল নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে মেয়র পদে নির্বাচিত করার আহবান জানান। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে রাস্তা-ঘাট, ড্রেন, হাট-বাজারের উন্নয়নসহ এই পৌরসভাকে একটি বাস উপযোগি পৌরসভায় রুপান্তর করবো।
অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ও দিনাজপুর পৌরসভার বর্তমান কাউন্সিলর মো. ফয়সল হাবিব সুমন বলেন, আমি নির্বাচিত হলে দিনাজপুর পৌরসভাকে একটি আধুনিক পৌরসভায় রপান্তরিত করবো। রাস্তা-ঘাট, ড্রেনজ ব্যবস্থা, হাট-বাজারের উন্নয়ন করবো।
সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. মাহমুদ হাসান বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে পুলিশি টহলের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আচরণ বিধি মেনে প্রচারণা চালানোর জন্য সব প্রার্থীকে অবহিত করা হয়েছে। আচরণবিধি যাতে লঙ্ঘন না হয় সে জন্য একটি ভিজিল্যান্স কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত সার্বক্ষণিক একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভোটগ্রহনের আগের ২ দিন ও পরের ২ দিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে এবং ভোটগ্রহণের আগের ২ দিন ও পরের ২ দিন এবং ভোটের দিন একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।
মাহমুদ হাসান আরো জানান, ভোটের দিন মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশ, র‌্যাব, ও বিজিবি নিয়োজিত থাকবে। ভোট কেন্দ্রের জন্য আলাদা আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নিয়োজিত থাকবে। সাধারণ ভোট কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারের ১৯ জন সদস্য ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন ২০ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ