সিসি ডেস্ক: মিরপুরে যে বাসা থেকে জেএমবি সদস্যসহ সন্দেহভাজন আরো চারজনকে আটক করা হয় তাদের পরিচয় জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তিন জঙ্গির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযানের সময় ছয়তলা ভবনের ৬ষ্ঠ তলার যে ফ্ল্যাট থেকে তিন জঙ্গিকে আটক করা হয়েছে তার বিপরীত পাশের ফ্ল্যাট (মেস) থেকেও সন্দেহজনকভাবে আরো চারজনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। তারা হলেন- নাহিদ, মামুন, কামাল ও রাজ।
এদের মধ্যে নাহিদ ও মামুন উত্তরার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার টেকনোলজির (বিইউবিএটি) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। নাহিদের ভাগ্নে রাজ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। আর কামাল একটি অনলাইন বিজনেস মাধ্যমের কর্মকর্তা।
ডিবি পুলিশ বলেছে, আটককৃতদের সঙ্গে জেএমবির কোনো সংশ্লিষ্টতা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
এদিকে বুধবার রাত ২টা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের ৯ নম্বর রোডের ৩ নম্বর বাড়ির ৬ষ্ঠ তলার দুটি কক্ষ থেকে ১৬টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ১৬ রাউন্ড গুলি ও দুইটি পাইপ বোমা উদ্ধার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এছাড়া বেশকিছু সুইসাইডাল বেল্টও উদ্ধার করা হয়।
এসময় জেএমবির তিন সদস্যসহ আটক করা হয় সাতজনকে। ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে তালাবদ্ধ ট্রাঙ্কও উদ্ধার করা হয়। ওই ট্রাঙ্কের তালা কেটে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
একটি কক্ষ থেকে দেশীয় হ্যান্ড গ্রেনেড তৈরির জন্য একটি ছোট আকারের লেদ মেশিনও উদ্ধার করা হয়েছে। ওই লেদ মেশিন দিয়ে হ্যান্ড গ্রেনেড তৈরির জন্য টিউবওয়েলের পাইপ কাটা হতো।
শাহ আলী থানার ওসি শাহীনুজ্জামান জানিয়েছেন, জেএমবি সদস্য আটক ও গ্রেনেড- বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। ওই মামলায় আটককৃত তিন জেএমবি সদস্যকে আসামি দেখানো হয়েছে। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানাতে তিনি অস্বীকার করেন।