• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

শেষ পর্যন্ত চড়া মূল্যেই ত্রিপুরা থেকে আসছে বিদ্যুৎ

131087_1ঢাকা: শেষ পর্যন্ত ভারতের প্রস্তাব মেনে নিয়ে চড়া মূল্যে ত্রিপুরার পালাটানা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।

শনিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে ত্রিপুরার বিদ্যুৎমন্ত্রীর বৈঠকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সাড়ে ৬ টাকা দরের বিষয়ে দুদেশ সমঝোতায় পৌঁছায়।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব মনোয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ কায়কাউ প্রমুখ।

অন্যদিকে, ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী মানিক দে। এছাড়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন- ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক ঘনস্যাম প্রসাদ, ত্রিপুরা রাজ্যসভার বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রধান সচিব এসকে রাকেশ, এজিএম মহানন্দ দেববর্মা।

বৈঠকে ভারতের দেয়া প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৮ মার্কিন সেন্ট, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৬ টাকা এবং ভারতীয় মুদ্রায় সাড়ে ৫ রুপির প্রস্তাবই মেনে নেয় বাংলাদেশ।

অথচ বিনা মাশুলে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ত্রিপুরার পালাটানায় ৭৭৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাস বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন করে ভারত।

সেই সহায়তার ‘প্রতিদান’ হিসেবে ওই কেন্দ্র থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ত্রিপুরা সরকার। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নাগাদ এই বিদ্যুৎ আসতে পারে বলে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী মানিক দে বলেন, ‘আর্থিক মূল্য দিয়ে বিষয়টি বিচার করা যাবে না। এটি সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের ক্ষেত্রে আরো অনেক ব্যয় জড়িত থাকে। কিন্তু, শুধুমাত্র বাংলাদেশ বলেই আমরা সেসব ধরতে যায়নি। বাংলাদেশ ভারতের ভাতৃপ্রতীম দেশ বলেই এ দরে বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে।’

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে। এখন কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত বিদ্যুৎ চলে আসবে বলেও জানান মানিক দে।

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর এই বিদ্যুৎ আমদানি শুরুর কথা থাকলেও দর জটিলতায় তা আটকে যায়। ফলে সে সময়ে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) সই করা হয়নি।

সবশেষ গত ২৭ ও ২৮ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে দুদেশের বিদ্যুৎ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

সে সময় জানানো হয়েছিল, ত্রিপুরার প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ভারত প্রথমে ৯ সেন্ট (৭ টাকা ১৩ পয়সা) চেয়েছিল। পরে তারা আট সেন্টে রাজি হয়। বাংলাদেশ প্রতি ইউনিটের জন্য ৬ সেন্ট (৪ টাকা ৭৫ পয়সা ) দিতে চেয়েছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের প্রস্তাবে রাজি হয়নি।

আজকের বৈঠকে বাংলাদেশ এবং ভারত দরের বিষয়ে সমঝোতায় আসতে সক্ষম হয় এবং ভারতের প্রস্তাবই জয়ী হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই বিদ্যুৎ আনতে ইতোমধ্যে ত্রিপুরার সুরজমনি নগর থেকে বাংলাদেশের কুমিল্লা পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন স্থাপন করেছে পাওয়ার গ্রিড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (পিজিসিআইএল)।

আর বাংলাদেশের ভেতরে আরো ৪৭ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করেছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)।

ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গত ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে সরবরাহ করার কথা ছিল। এজন্য উভয় দেশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু ভারত বিদ্যুতের দাম বেশি চাওয়ায় আমদানি শুরু হয়নি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বর্তমানে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনছে। এই বিদ্যুতের দাম নতুন করে পাইপলাইনে থাকা ত্রিপুরার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের দামের চেয়ে কম।

২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর ভারত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর থেকে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা হয়ে এ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়।

এ বিষয়ে বিদ্যুতের ক্রেতা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এক কর্মকর্তা বলেন, ভারতে থেকে আমদানি করা ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ২৫০ মেগাওয়াট আসছে সে দেশের সরকারি খাত থেকে। এর দাম পড়ছে প্রতি ইউনিট সাড়ে চার সেন্ট, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ টাকা ৫৬ পয়সা।

আর ২৫০ মেগাওয়াট বেসরকারি কোম্পানির কাছ থেকে কিনে আনা হচ্ছে। এজন্য প্রতি ইউনিটের ব্যয় সাড়ে ৫ সেন্ট, বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ টাকা ৩৬ পয়সা পড়েছে।

প্রসঙ্গত, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ৭২৬ মেগাওয়াটের পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারি যন্ত্রপাতি পরিবহনে ট্রানজিট সুবিধা দেয় বাংলাদেশ। কেন্দ্র নির্মাণের মালামাল নেয়া শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের মার্চ থেকে। আগস্ট পর্যন্ত ১৪টি চালানে ভারি যন্ত্রপাতি ত্রিপুরা নেয়া হয়।

আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর থেকে লম্বা ট্রেলারে করে যন্ত্রপাতিগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ওপর দিয়ে আখাউড়া সীমান্ত হয়ে ত্রিপুরার আগরতলায় যায়। এতে করে স্থানীয় রাস্তা ও নদী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

ওই সময় ত্রিপুরা রাজ্য সরকার এ কেন্দ্র থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশকে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। সে সময় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেছিলেন, ‘কৃতজ্ঞতাস্বরূপ’ বাংলাদেশকে এ কেন্দ্র থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ